পাঁচ বছরে মাহি বি চৌধুরীর নগদ বেড়েছে ৪ গুণ

পাঁচ বছরে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহি বি চৌধুরীর নগদ টাকা বেড়েছে ৪ গুণ। ২০১৮ সালে তাঁর হাতে নগদ ২৫ লাখ থাকলেও এখন আছে কোটি টাকার ওপরে। গতবারের হলফনামায় উল্লেখ করা জমির হদিশ এবার হলফনামায় না থাকলেও নতুন যোগ হয়েছে পেঁচারদ্বীপের ৬৯ লাখ টাকার জমি।

বিকল্পধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের বর্তমন সংসদ সদস্য। এই আসনে এবারও তিনি দলের প্রার্থী হয়েছেন।

২০১৮ সালে নির্বাচন কমিশনে দেওয়া হলফনামায় তিনি জানিয়েছিলেন, ব্যবসা থেকে বছরে তাঁর আয় ২৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা। এবার তা নেমেছে ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। তবে, আগেরবার তাঁর স্ত্রীর কোন আয় না থাকলেও এবার একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে সম্মানি দেখানো হয়েছে ১৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা। 

হলফনামা অনুযায়ী, নিজের ও স্ত্রীর কাছে মোট কত টাকার স্বর্ণ ও আসবাবপত্র রয়েছে তা জানেন না মাহি বি চৌধুরী। তবে, মাহির নগদ টাকা বেড়েছে ৪ গুণের বেশি। ২০১৮ সালে ২৫ লাখ টাকার বিপরীতে এবার মাহির নগদ অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা। আর গতবার স্ত্রীর নামে ৫ লাখ টাকা থাকলেও এবার আছে প্রায় ৮৯ লাখ।

২০১৮ সালের হলফনামায় অ্যাভালন এস্টেট লিমিটেডের নামে ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার জমি থাকার কথা উল্লেখ থাকলেও এবার তা উল্লেখ নেই মাহির হলফনামায়। এর পরিবর্তে যুক্ত হয়েছে পেঁচারদ্বীপে ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার টাকার জমি। 

মুন্সিগঞ্জের ড. ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, ‘অস্বাভাবিক আয় বৃদ্ধির ক্ষেত্রে যে আমাদের আইন রয়েছে আইনের আওতায় যাতে সবাই আসতে পারে এবং সবাইকে আইনের আওতায় এনে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রযন্ত্রের যে সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ভোটের যে সুষ্ঠু পরিবেশ এবং ভোটের মধ্যে যে কালো টাকার চড়া শুরু হয় সে কালো টাকার ছড়াছড়ি বন্ধ করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করার আমি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এদিকে, ভোটাররা বলছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েও জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন মাহি। তবে, এ অভিযোগ মানতে নারাজ দলের নেতারা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘এমপির উন্নয়নের যে বরাদ্দ সেটার কাজ খুবই কম হয়েছে এবং অতিরিক্ত যেই সময় এমপিরা থাকেন, তারা বিশেষ বিশেষ কিছু কাজ করেন। সেরকম কোনো কাজ দেখা যায় নাই এই পাঁচ বছরে।’ 

বিকল্পধারা বাংলাদেশের শ্রীনগর উপজেলার সদস্য সচিব গাজী শহীদুল্লাহ কামাল ঝিলু বলেন, ‘সাঙ্গপাঙ্গসহ মোটরসাইকেল বহর নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় উনি আসেন না। উনি যতটুকু কাজ করার কাজ করেছেন এবং মুন্সিগঞ্জ–১ আসনের কোন ধরনের উন্নয়ন কোন ধরনের অফিসিয়াল কাজ তাঁর জন্য কখনো বাধাগ্রস্থ হয়নি। সবাইকে এমন একটা আবহাওয়ার পরিবেশ তৈরি করে দিয়েছেন যেখানে মানুষ সুখের শান্তি আছে।’ 

হলফনামায় মাহি ও তাঁর স্ত্রীর কোনো বাড়ি বা ফ্ল্যাটের কথা উল্লেখ করা হয়নি। তাঁর কোনো দায়দেনা নেই। খেলাপি একটি ঋণের জামিনদার হওয়ায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হলেও আপিলে তা বৈধ হয়।