টাঙ্গাইলে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় প্রাণ গেল কলেজছাত্রের

কলেজছাত্র হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজন। ছবি: ইনডিপেনডেন্টটাঙ্গাইলের বাসাইলে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় প্রাণ হারালেন জিজান হাসান দীপ্ত (১৮) নামের এক কলেজশিক্ষার্থী। এ ঘটনায় কিশোর গ্যাংয়ের মূলহোতা শাকিল আহাম্মেদ ওরফে টিকটক শাকিলসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শুক্রবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

জিজান হাসান দীপ্ত সখীপুর উপজেলার চাকদহ গ্রামের জাহাঙ্গীর আলম মল্লিকের ছেলে। দীপ্ত ঢাকায় বিজিবি পিলখানায় অবস্থিত বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ থেকে ২০২৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর থেকে মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

এর আগে ২৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) বাসাইল উত্তরপাড়ার বাজারে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরদিন ২৭ জানুয়ারি (শনিবার) নিহত দীপ্তর মা সোহেলী সুলতানা দিপা বাদী হয়ে বাসাইল থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩–৪জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার আসামিরা হলেন– বাসাইল থানাপাড়ার হোসেন আলীর ছেলে শাকিল আহাম্মেদ (২৫), বাসাইল শ্বশানঘাটা এলাকার টুইনা ওরয়ে টুনু মিয়ার ছেলে আলমগীর হোসেন (২৪), থানাপাড়ার শাহ আলমের ছেলে স্বাধীন মিয়া (২০), বিরু আহাম্মেদের ছেলে মনা মিয়া (১৯), থানাপাড়ার মনির হোসেনের ছেলে অনিক মিয়া (১৯), একই এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে রাহাত হাসান (২০), শুকুর মিয়ার ছেলে জিহাদ মিয়া (১৯) ও কালু মিয়ার ছেলে সিমান্ত মিয়ার (১৯)।

মামলার পর পুলিশ ঘটনার মূলহোতা শাকিল ও তাঁর সহযোগী অনিক এবং আসাদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে। শাকিল ও অনিককে গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে পাঁচটি রাম দা ও লোহার পাইপ, মোটরসাইকেলের চেইন, প্রিমিয়াম ঝালাইযুক্ত দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এরপর শাকিল ও অনিকের বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র আইনেও মামলা হয়েছে। বর্তমানে তারা তিনজন কারাগারে রয়েছেন।

নিহত কলেজছাত্র জিজান হাসান দীপ্ত (১৮)। ছবি: সংগৃহীতমামলা সূত্রে জানা যায়, জিজান হাসান দীপ্ত গত ২৩ জানুয়ারি বাসাইল দক্ষিণপাড়া এলাকায় তাঁর নানা রফিকুল ইসলামের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। পরে ২৪ জানুয়ারি দুপুরে সমবয়সী বাসাইল উত্তরপাড়ার নাঈম ও সজল খানের সঙ্গে জিজান হাসান দীপ্ত বাসাইল বাজারে বেড়াতে যান। সেখান থেকে নাঈমকে পূর্ব শত্রুতার জেরে শাকিল বাসাইল বাজারের একটি ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেন। এ সময় জিজান হাসান দীপ্ত ও সজল খানও উপস্থিত ছিলেন। 

এরপর সন্ধ্যায় আবারও তাঁরা তিনজন বাসাইল বাজারের দিকে যান। এ সময় বাসাইল মনি ক্লিনিকের সামনের মোড়ে পৌঁছালে শাকিলের নেতৃত্বে অতর্কিতভাবে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। নাঈম ও সজল প্রাণ রক্ষার্থে দৌড়ে পালিয়ে যান। এ সময় দীপ্তকে ধারালো দা, কাঠের স্ট্যাম্প, লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শাকিলসহ অন্যরা পালিয়ে যান। পরে দীপ্তকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়। ওইদিন থেকে ঢাকার একটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রাখা ছিলেন দীপ্ত। আজ শুক্রবার ভোরে মারা যান তিনি।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রিন্স মাহমুদ বলেন, ‘কিশোর গ্যাংয়ের হামলার শিকার হয়ে কলেজছাত্র জিজান হাসান দীপ্ত ২৪ জানুয়ারি থেকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হামলার ৯দিন পর জিজান হাসান দীপ্ত আজ ভোরে মারা যায়।’

এ বিষয়ে বাসাইল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছেলেটি সকালে মারা গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মূলহোতা শাকিল ও অনিককে রিমান্ডে আনার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।