মানিকগঞ্জের সিংগাইরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু–পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশের সামনে কুদ্দুস মিয়া (৫৫) নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ করেছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার কারণে সিংগাইর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম ও এএসআই আজিজুলকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনে যুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি–ধাওয়া হয়। এতে পাঁচজন আহত হন। এ ছাড়া কুদ্দুস মিয়া গুরুতর আহত হন। তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শনিবার মারা যান।
কুদ্দুস মিয়ার বাড়ি উপজেলার চান্দহর ইউনিয়নের আটিপাড়া গ্রামে।
পুলিশ, নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার সিরাজপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আবুল কালামের নেতৃত্বে মিলন, জুবায়ের, আব্দুল আলীম, রাসেল, জব্বার, হারুনসহ ১০-১৫ জন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষ শাহিনুর ও ফারুকের ওপর হামলা করে। এরপর স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে ঢামেকে হাসপাতালে পাঠান।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে শান্তিপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আব্দুস সালাম মিয়া ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে দেশিয় অস্ত্র নিয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রতিপক্ষ কুদ্দুস মিয়ার ওপর হামলা হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢামেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কুদ্দুস মিয়া মারা যান।
নিহতের বোন জাবেদা অভিযোগ করে বলেন, ‘পুলিশের সামনেই আমার ভাইকে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পুলিশ ব্যবস্থা নিলে আমার ভাই মারা যেত না।’
সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশের দায়িত্ব পালনে কোনো অবহেলা ছিল না। যেহেতু নিহতের স্বজনেরা দুই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে, তাই তাদের প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ঘটনায় হারুন নামের একজনকে অভিযান চালিয়ে আটক করা হয়েছে।’
ওসি বলেন, ‘শনিবার প্রথম দফায় মারামারির ঘটনার আহত শাহিনের মা শাহিনা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। হত্যার ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’