ডেকেও যাত্রী পাচ্ছে না দুরপাল্লার বাস 

ঈদের আগের দিন প্রায় অচেনা রাজধানীর আন্তজেলা বাস টার্মিনাগুলো। গত দিনের তুলনায় যাত্রীর চাপ ছিল একেবারে কম। কাউন্টারও ছিল প্রায় ফাঁকা। বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ নেই আগের মতো। এতে স্বস্তি নিয়েই ঢাকা ছেড়েছেন স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে যাওয়া যাত্রীরা। 

রাজধানীর গাবতলী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালে প্রবেশ করতেই শোনা যায় হেলপারদের হাঁক। যাত্রীদের বাসে তুলতে ক্রমাগত আহ্বান জানিয়ে যাচ্ছেন তারা। কিন্তু যাত্রী সে রকম নেই। 

ঈদের আগের দিন গাবতলীতে পা ফেলার জায়গা থাকবে না, ভেস্তে গেছে সে শঙ্কা। এবারের চিত্র যেন অচেনা। কাউন্টারে নেই ম্যানেজারদের তোড়জোড়। কাটছে অলস সময়।

একটি কাউন্টারের কর্মীর বললেন, ‘ভাড়া ৭৫৫ টাকা বিআরটিএ রেট। ৬০০ টাকা চাচ্ছি, তাও যাত্রীরা দিতে চায় না। কেবল একটা টিকিট বেঁচলাম ৬০০ টাকা দিয়ে।’ 

চাপ কম থাকায় কাউন্টারে টিকিট নিয়ে দর কষাকষি করেছে বাড়ির পথের যাত্রীরা। এমনই একজন বললেন, ‘ভেবেছি যে অনেক ভিড় হবে। আজকে দেখি পুরো রাস্তাই ফাঁকা। এ জন্য চিন্তা করলাম আজকেই যাই। ঈদের এক মাস আগে ভাড়া ছিল ৩৩০ টাকা। এখনও দেখা যাচ্ছে ভাড়া ৩৩০ টাকা। এটা আমার জন্য ঠিকই আছে।’  

একই চিত্র মহাখালী বাস টার্মিনালে। সিট খালি থাকায় নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কমে টিকিট ছাড়ার দাবি করেছেন কাউন্টার কর্মীরা।

এক কাউন্টার কর্মী বলেন, ‘যাত্রীরা সব চলে গিয়েছে। যাত্রী পাব কোথায়? আগে আগে ছুটি পেয়েছে, সব চলে গেছে। যাত্রী নাই। ৪৬৫ টাকা ভাড়া, ৫০০ করে বিক্রি করেছিলাম। এখন যাত্রী নাই বলে ৪০০ করে বেঁচলাম।’ 

আগের চেয়ে এবারের ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক বলে দাবি করেছেন বিআরটিএ চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার। গাবতলী পরিদর্শনে এসে তিনি জানান, ফিরতি পথেও থাকবে কড়া নজরদারি। আর বাড়তি ভাড়া আদায়কারীদের ছাড় দেওয়া হবে না। 

নূর মোহাম্মদ মজুমদার বলেন, ‘কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু আমরা জরিমানা করেছি।’ 

সিট ফাঁকা রেখেও ঢাকা ছেড়েছে অনেক কিছু বাস। কিছু আবার যাত্রীর জন্য ছেড়ে যায়নি নির্দিষ্ট সময়ে। চোখে পড়েছে বাসে তুলতে যাত্রী টানাটানির ঘটনা।