মানিকগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন ঘিরে গুলির ঘটনায় ২ মামলা

পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং গুলির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা থেকে সারে ১২ টার মধ্যে দুই প্রার্থীর সমর্থকরা শিবালয় থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুর রউফ সরকার মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার বিকেল সারে চারটার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহিম খানের নির্বাচনী ক্যাম্প এলাকায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউর রহমান খান জানুর কর্মীরা পোস্টার লাগাতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে রহিম খানের কর্মীরা জানুর কর্মীদের মারপিট করে রাস্তায় ফেলে রাখেন। পরে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ফাহিম রহমান খান রনি বিষয়টি জানার পর তার চাচাতো ভাই আরুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোনায়েম মোস্তাকিন খান অনিককে সঙ্গে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়া মাত্র সেখানে থাকা আব্দুর রহিম খানের ভাগিনা শিবালয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলাল উদ্দিন আলাল এবং কর্মী দেবাশীষ ঘোষ জয় তাদের গালিগালাজ করেন। এক পর্যায়ে রনির কর্মীরা এগিয়ে গেলে আলাল এবং জয় ঘোষ তাদের লাঠিসোঠা এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া দেয়। পড়ে নিজের জীবন রক্ষায় রনি নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল দিয়ে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে এলাকা থেকে চলে যায়। এ ঘটনায়  আব্দুর রহিম খানের বিক্ষুব্ধ সমর্থকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ডাক্তার খানা এলাকা অবরোধ করে রাখে। অন্যপাশে আরিচা ঘাটে রেজাউর রহমান খান জানুর সমর্থকরা বিক্ষোভ-মিছিল করায় উপজেলার উথুলী মোড় থেকে আরিচা ঘাট পর্যন্ত প্রায় এক ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়ে যানবাহন চালক ও যাত্রীরা। পরে স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এম জাহিদ, পুলিশ সুপার গোলাম আজাদ খান ঘটনাস্থলে গিয়ে সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে দুই পক্ষ থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

মামলার বিষয়ে আব্দুর রহিম খানের সমর্থক দেবাশীষ ঘোষ জয় বলেন, ‘আমাকে সরাসরি গুলি করার অভিযোগে প্রধান অভিযুক্ত ফাহিম রহমান খান রনি (৪৫) এবং মোনায়েম মোস্তাকিন খান অনিক (৩৬), তেওতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহাদ (৫৫), সুজন খন্দকার (৩৭), আরিফুর রহমান (৩৫) সহ আরো অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেছি।’

তিনি আরো বলেন, আমার ওপর গুলি ছুড়েছে, হামলা করেছে তাদের গ্রেপ্তার দাবি করছি। আমাকে গুলি করা এবং হামলার ঘটনা ধামাচাপা দিতে তারা সুস্থ মানুষ আহত বানিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে মিথ্যা মামলার নাটক সাজিয়েছে। এই ধরনের নাটক যারা করে তাদের আইনের আওতায় এনে আমি শাস্তির দাবি করছি। পাশাপাশি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই, আমি আমার পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’

এদিকে, মামলার বিষয়ে তেওতা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহাদ বলেন, ‘জয় ঘোষ এবং আলাল উদ্দিন সহ তাদের কর্মীরা মিলে আমাদের দুই কর্মীকে বেধরক পিটিয়ে আহত করেছে। এ কারণে আমরা জয় ঘোষ (২৮), আলাল উদ্দিন আলাল (৪০), সজল (১৮),সিহাব (১৯),আতোয়ার (৪৫), শাহিন (৩৩), লিখন (১৯) সহ অজ্ঞাত ৭ জনকে আসামি করে মামলা করেছি।’

তিনি বলেন, ‘মামলা নিয়ে আমরা কোন নাটক করি না, জয় ঘোষ নাটক করছে। আমাদের দুই কর্মী হাসপাতালে এখনো চিকিৎসাধীন আছে। আপনি জয় ঘোষকে জিজ্ঞাসা করুন তাদের (জয় ঘোষের) কোন কর্মী আহত হয়েছে কিনা।’

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আব্দুর রউফ সরকার বলেন, ‘দুই পক্ষের দুটি মামলা রজু হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। গুলি ছোড়া পিস্তুলটি জব্দ করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।’

আগামী ২১ মে দ্বিতীয় দফায় মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচনে শিবালয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউর রহমান খান জানু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম খান সহ তিনজন চেয়ারম্যান প্রার্থী রয়েছে। এর আগে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শিবালয় উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়ন এবং তেউতা ইউনিয়নে দুই দফায় ককটেল বিস্ফোণের ঘটনা ঘটে।এ ঘটনায় রহিম, খান এবং জানু একে অপরকে দোষারোপ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।