ডিসপেনসারি থেকে মিলল নারীর গলাকাটা মরদেহ, স্বামী পলাতক

গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি ওষুধের দোকানের (ডিসপেনসারি) ভেতর থেকে এক নারীর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ভুক্তভোগীর স্বামী।

নিহত নারীর নাম রেহেনা আক্তার (২৭)। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার ইদ্রিস আলী ভুইয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় পলাতক রেহেনার স্বামীর নাম কিবরিয়া (৪০)। তাঁর বাড়ি নড়াইল বলে জানা গেছে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এক বছর ধরে স্ত্রী রেহেনাকে নিয়ে শ্রীপুরের মুলাইদ গ্রামের মোস্তফা কামালের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন কিবরিয়া। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে মোস্তফার মালিকানাধীন একটি দোকান ভাড়া নিয়ে ওষুধসহ মোবাইল ব্যাংকিং ও রিচার্জের ব্যবসা শুরু করেন তিনি। মাস চারেক আগে ভাড়া বাড়ি ছেড়ে স্ত্রী রেহেনাকে গ্রামে পাঠিয়ে দোকানে বসবাস শুরু করেন কিবরিয়া। তিনদিন আগে রেহেনা বাড়ি থেকে আসেন এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনেই দোকানে বসবাস শুরু করেন।

শুক্রবার সকাল থেকে দোকানটি বন্ধ দেখতে পান স্থানীয়রা। সন্ধ্যার দিকে পাশের অপর দোকানদার সোহেল রিচার্জ করতে দোকানে যায়। তখন দোকান বন্ধ ছিল, তবে দোকানের ভেতরে আলো জ্বলছিল। এই অবস্থায় সোহেল দোকানের ভেতরে উঁকি দিয়ে মেঝেতে এক নারীকে শুয়ে থাকতে দেখেন। এতে তাঁর সন্দেহ হলে তিনি দোকান মালিক মোস্তফাকে খবর দেন। পরে মোস্তফা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানের তালা ভেঙে মেঝে থেকে রেহেনার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর আলী খান বলেন, নিহত রেহানা আক্তার কিবরিয়ার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বঁটি দিয়ে গলাকেটে ওই নারীকে হত্যা করেছেন কিবরিয়া। হত্যার পর মরদেহ দোকানের ভেতর ফেলে বাইরে থেকে তালা দিয়ে কিবরিয়া পালিয়ে যান। 

কিবরিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি আকবর আলী। তিনি জানান, কিবরিয়াকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলেই বিস্তারিত জানা যাবে।