রাসেলস ভাইপার আতঙ্কে ‘ঘরবন্দি’ ফরিদপুরের চরাঞ্চলের মানুষ

বিষধর রাসেলস ভাইপার বা চন্দ্রবোড়া সাপের আতঙ্কে অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন ফরিদপুরের চরাঞ্চলের মানুষ। বর্ষার আগে উপদ্রব বেড়ে যাওয়া ও মানুষের মনে মৃত্যু ভয় বাসা বেধেছে। আতঙ্করোধে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুদ ও চরবাসীর মাঝে গামবুট বিতরণ ও স্পিডবোটের ব্যবস্থাসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার চরাঞ্চলে কয়েক হাজার মানুষের বসবাস। ৭ বছর আগে এসব এলাকায় চন্দ্রবোড়া সাপের দেখা মেলে। যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত রাসেলস ভাইপার নামে।

এই সাপ সম্পর্কে আগে তেমন কিছু না জানলেও, এর ভয়াবহ রূপ সম্পর্কে জানার পর শঙ্কিত এলাকাবাসী। সম্প্রতি সাপের কামড়ে এক কৃষকের মৃত্যু ঘটনা এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। চরের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘সাপের কামড়ে চারজন মানুষ মারা গেছে এইটা আমি নিজে জানি। এদের একজনও বাঁচে নাই, কারণ ঠিকমতো তারা চিকিৎসা পায় নাই, কাছাকাছি হাসপাতাল নাই।’

পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে খেতখামার, ঝোপঝাড় এমনকি বসত ঘরেও ঢুকে পড়ছে সাপ। উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চরাঞ্চলবাসী। চরে বসবাসকারী এক গৃহবধূ বলেন, ‘সাপের একটা ভয় এসে গেছে আমাগো মধ্যে। এখন বাইরে যেতে ভয় করে।’ 

খুব বেশি দরকার না হলে বাড়িতে তেমন কেউ বের হচ্ছেন না। ছবি: ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশননদী বেষ্টিত চরাঞ্চলে যাতায়াতের একমাত্র বাহন নৌকা। সাপের কামড়ে কেউ অসুস্থ হলে হাসপাতালে নিতে সময় লাগে কয়েক ঘণ্টা। এ জন্য চরের স্বাস্থ্য ক্লিনিকে চিকিৎসক ও প্রতিষেধক রাখার দাবি স্থানীয়দের। 

ফরিদপুরসহ বিভিন্ন জেলায় রাসেলস ভাইপারের উপদ্রব এবং ভুল তথ্যের কারণে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। এ জন্য জনসচেতনতাসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক কামরুল আহসান তালুকদার বলেন, ‘জেলা উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যন্ত মাইকিং করে সবাইকে সচেতন করার উদ্যোগ নিয়েছি। একই সাথে যেসব এলাকায় চর বেশি সেখানে আমরা গামবুট বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছি।’

এদিকে সাপেকাটা ও অসুস্থ রোগীদের দ্রুত জেলা শহরের হাসপাতালে নিতে সি-বোট, স্পিডবোট চালু রাখার দাবি জানিয়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ।