কোটা আন্দোলন: দুপক্ষের সংঘর্ষে আহত অন্তত ১০০ 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটার পক্ষে এবং বিপক্ষের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষে অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষ হয়। 

পরে বিকেলে আহতদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তাদের অধিকাংশের মাথা থেকেই রক্ত ঝরতে দেখা গেছে। 

আহত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইডেন কলেজের ভেতরে ছাত্রলীগের হামলায় ৬ ছাত্রী আহত হয়। এছাড়া রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর, জিয়া হল, শহীদুল্লাহ হল ও বিজয় একাত্তর হলে ছাত্রলীগের কর্মীরা কোটা বিরোধী শিক্ষার্থীদের উপরে হামলা চালায়। এতে আন্দোলনকারীরা আহত হন। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া। তিনি জানান, ঢাকা মেডিকেলে আহত অবস্থায় অন্তত ১০০ শিক্ষার্থী জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নেন। 

এর আগে, কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য এলাকায় জড়ো হন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে প্রথম মিছিলটি রাজু ভাস্কর্যের সামনে আসে। পরে মিছিল নিয়ে আসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও বদরুন্নেসা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা। 

এরপর দলে দলে শিক্ষার্থীরা রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হন। এ সময় তারা কোটা সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। তাদের দাবি, সংসদে জরুরি অধিবেশন ডেকে সরকারি চাকরির সব গ্রেডের কোটার যৌক্তিক সংস্কার করতে হবে। 

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি-১ শাখা নবম গ্রেড এবং ১০ম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করা করে। ফলে সরকারি চাকরিতে ১০ শতাংশ নারী কোটা, ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা এবং ১০ শতাংশ জেলা কোটা বাতিল হয়ে যায়। 

পরে ওই পরিপত্র চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করে। ওই রিটের শুনানি শেষে গত ৫ জুন সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয় হাইকোর্ট। এতে সরকারি চাকরিতে আবারও কোটা ফিরে আসে।

বিষয়টি আপিলে গেলে গত ৯ জুন হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে বিষয়টি আপিল বিভাগের বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান চেম্বার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। ৪ জুলাই আপিল বেঞ্চ জানায়, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর মামলাটির শুনানি শুরু হবে। গত ১১ জুলাই আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায়ের ওপর এক মাসের স্থগিতাদেশ দেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানায়, ঝুলন্ত কোনো সিদ্ধান্ত তাঁরা মানবেন না।