শরীয়তপুরের ডামুড্যায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাসেল সরদার নামের এক মাছ ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা করা হয়েছে।
গতকাল রোববার রাতে ডামুড্যা থানায় নিহতর বড় ভাই ওয়াসিম সরদার বাদি হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন- উপজেলার এড়িকাঠি এলাকার ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক (ইউপি) চেয়ারম্যান দ্বীন মোহাম্মদ দুলাল মাদবর (৫৩), সাইফুল মাদবর (৩২), পারভেজ ফকির (৩৫), বাচ্চু ফকির (৪৯), লিটন মাদবর (৫২), কানাইকাঠি এলাকার দেলোয়ার ছৈয়াল (৫০), মনির ফকির (৩৫), মালগাঁও এলাকার নিজান মাদবর (৩৯)।
মামলা সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন মোহাম্মদ দুলাল মাদবরের সঙ্গে ইসলামপুর ইউনিয়নের এড়িকাঠি গ্রামের ইচাহাক সরদারের ছেলে রাসেল সরদারের সঙ্গে রাজনৈতিক মামলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে রাসেল সরদার ইসলামপুর ভাঙ্গাব্রিজ এলাকায় সেলুনে চুল দাড়ি কাটাতে যায়। এসময় পূর্ব পরিকল্পনা করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান দ্বীন মোহাম্মদ দুলাল মাদবরের নেতৃত্বে সাইফুল মাদবরসহ ১০/১২ জন হঠাৎ করে রাসেল সরদারের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে হাতপায়ের রগ কেটে দেয়া হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা পঙ্গু হাসপাতালে প্রেরণ করেন। ওই হাসপাতালে রাত ৩টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
মামলার পর সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিহতর পরিবার ও স্থানীয় লোকজন এড়িকাঠি এলাকায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে একটি বিক্ষোভ করেন।
এসময় নিহতর বড় ভাই ইসলামপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য ওয়াসিম সরদার বলেন, ‘আমার ভাই রাসেল সরদার কোন রাজনীতিতে যুক্ত ছিলনা। তাঁর কোন পদ নেই। অনেকেই মিডিয়ায় লিখেছে তিনি যুবলীগ কর্মী ও নেতা ছিলেন, এটা মিথ্যা কথা। তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী। পরিকল্পিতভাবে আমার ভাই রাসেলকে কুপিয়ে হাতপায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ বিচার ফাঁসি দাবি করছি।’
এদিকে, ঘটনার পরে মামলার আসামি সাবেক চেয়ারম্যান দ্বীন মোহাম্মদ দুলাল মাদবরসহ সকল আাসামি পালিয়ে আছেন।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, ‘এ ঘটনায় ৮জনের নাম উল্লেখ করে ৩/৪জনকে অজ্ঞাত করে একটি মামলা করেছে নিহতর বড় ভাই ওয়াসিম সরদার। আমরা আসামিদেরকে গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাচ্ছি।’