বাংলাদেশে আলু, চাল, গম, পেঁয়াজের মতো পণ্য রপ্তানি বন্ধ করলে ভারতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। সোমবার দুপুরে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উলাইল ইউনিয়নের রুপসা গ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ও আহত পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘ভারতের আলু, চাল, গম, পেঁয়াজসহ যেসব পণ্য আমরা আমদানি করি সেগুলো নাকি তারা বন্ধ করে দেবে। ভারত রপ্তানি বন্ধ করে দিলে তাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারতই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা তো আর বিনা পয়সায় কিনি না, ডলার দিয়ে কিনি। আমরা ভারত নির্ভর ছিলাম না, শেখ হাসিনার জন্যই দেশে উৎপাদন কম এবং আমদানি বেশি হয়েছে।’
এসময় তিনজন শহীদ ও দুজন আহতের পরিবারের প্রতি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন রিজভী।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রিজভী বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ ভয়ংকর একজন স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়েছে। যিনি নিজের ক্ষমতাকে আটকে রাখার জন্য নিজ দেশে শিশুদের হত্যা করতে দ্বিধা করেনি। তিনি পার্শ্ববর্তী দেশে বসে মিথ্যা অপপ্রচার ও অপতথ্য দিচ্ছেন। ভারতীয় মিডিয়ায় বিভিন্ন গুজব প্রচার করা হচ্ছে। দিনরাত ডাহা মিথ্যা কথা বলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার চেষ্টা করছে ভারত।’
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি হাজার বছরের। আমরা জন্মের পর থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখিনি। হিন্দু–মুসলমান প্রত্যেকে নিজ নিজ উৎসব পালন করে আসছে স্বাধীনভাবে।’
পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের উদ্দেশ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব বলেন, ‘গুজরাটে প্রায় দুই হাজার মুসলমান জবাই করে হত্যা করলেন। সম্রাট বাবরের তৈরি ৪০০ বছরের পুরনো মসজিদ ভেঙে দিয়ে রাম মন্দির করলেন। আপনাদের মত ঘৃণ্য সম্প্রদায় পৃথিবীর আর কোথাও নেই।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা, বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল, আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাবিবুল বাশার, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, মানিকগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল খালেক শুভসহ মানিকগঞ্জ জেলা ও স্থানীয় বিএনপির নেতারা।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন চলাকালে আইন শৃঙ্খখলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে মানিকগঞ্জ জেলায় শহীদ রফিকুল ইসলাম, আফিকুল ইসলাম সাদ ও ছায়াদ মাহমুদ খান এবং আহত সাকিব খান ও হাসনা হেনার পরিবারগুলোর মধ্যে আর্থিক সহায়তা দেয় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ নামের সংগঠনটি।