গোপালগঞ্জে প্রণোদনার বীজে পেঁয়াজ চাষিদের মাথায় হাত

পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ানো ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে গোপালগঞ্জে ৬০০ প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে প্রণোদনা হিসেবে পেঁয়াজ বীজ দেওয়া হয়েছিল। তবে বীজ বপনের পর ৪২০ জন চাষির জমিতে ৯৫ ভাগ বীজই অঙ্কুরিত হয়নি। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষিরা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কৃষি বিভাগ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি সরেজমিন পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতাও পেয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের ক্ষতিপূরন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় ৩ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। আর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৫০ হাজার মেট্রিক টন। তাই পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়নো ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় গেল নভেম্বর মাসে গোপালগঞ্জ কৃষি বিভাগের মাধ্যমে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র ৬০০ পেঁয়াজ চাষিকে বিনামূল্যে ১ কেজি করে বারি-১, বারি-৪ ও তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজ বীজ, ১০ কেজি ডিএপি এবং এমওপি সার প্রদান করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন। প্রণোদনা পাওয়া এসব বীজ আর সার দিয়ে চাষিরা প্রায় ৬০০ বিঘা জমির বীজতলায় পেঁয়াজের আবাদ করে। এর মধ্যে বারি-৪ ও তাহেরপুরী জাতের পেঁয়াজের বীজ দেওয়া হয় ৪২০ জন কৃষককে। কিন্তু এসব বীজ বপনের পর প্রায় ৯৫ ভাগ অঙ্কুরিত হয়নি। 

কাশিয়ানীর বালিয়াকান্দি গ্রামের পেঁয়াজ চাষি নীর হোসেন বলেন, ‘এ বছর তিন বিঘা জমিতে পেঁয়াজ আবাদের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এর মধ্যে সরকার থেকে ১ কেজি বীজ পাই। সেই বীজ একটিও গঁজায়নি। এতে আমি বিরাট ক্ষতির মধ্যে পড়ে গেছি। এখন জমিতে বীজ দেওয়ারও সময় নেই। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি আমাদের যেন ক্ষতির একটা বিধিব্যবস্থা করে।’ 

হোগলাকান্দি গ্রামের চাষি টুটুল মোল্লা বলেন, ‘আমাদের গ্রামে ৭-৮ জন কৃষক সরকারিভাবে পেঁয়াজ বীজ পায়। কিন্তু একজনেরও বীজ গঁজায়নি। অথচ যারা দোকান থেকে কিনে বীজবপন করেছে তাদেরটা ঠিকঠাক গঁজিয়েছে। সরকারি বীজে প্রতারণার শিকার হওয়ায় এখন আমরা বিপদে পড়ে গেছি।’

একই গ্রামের পেঁয়াজ চাষি তুহিন মোল্লা বলেন, ‘সরকারি বীজ পরীক্ষা না করে আমাদের দিয়েছে। বীজ গঁজায়নি। এতে আমাদের ক্ষতি হয়েছে।’

এ ব্যাপারে গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আব্দুল কাদের সরদার বলেন, ‘এ বছর প্রণোদনার আওতায় ৬০০ জন কৃষক পেঁয়াজের বীজ সহায়তা পায়। এর মধ্যে ১৮০ জন বিএডিসির বারী-১ জাতের বীজ পায়। এই বীজের মান ভালো ছিল। বাকি ৪২০ জন কৃষক বিএডিসি থেকে সরবরাহ করা বারী-৪ বীজ ও তাহেরপুরী গোল্ডেন এন্টারপ্রাইজ নাম প্যাকেটে লেখা ছিল। সেই পেঁয়াজ বীজটা অঙ্কুরিত হয় নাই। যাও অঙ্কুরিত হয়েছে তা খুবই নগণ্য।’

আব্দুল কাদের সরদার আরও বলেন, ‘এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসকসহ কৃষি বিভাগ মাঠে গিয়ে কৃষদের সঙ্গে কথা বলেছে। কৃষি অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছিল। শুধু আমাদের গোপালগঞ্জ জেলা না, পার্শ্ববর্তী ফরিদপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলার কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কৃষিবিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের  ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’