নাতনিকে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে ৯ বছরের নাতনিকে ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে নানা আলী আজগরকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গতকাল মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিংগাইর উপজেলার জয়মন্টপ ইউনিয়নের রায়-দক্ষিণ এলাকায় নিজ দোকানে আলী আজগরকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এর পর স্বজনেরা আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের শিকার আলী আজগর (৬০) রায়দক্ষিণ এলাকার মৃত আব্দুর রশিদ খানের ছেলে। ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত আল আমিন (৩৮) একই গ্রামের মৃত কালু প্রামাণিকের ছেলে।

মৃত আলী আজগরের ভাতিজা গোলাম ছারোয়ার বলেন, আল আমিন নামের ওই ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে আলী আজগরের নাতনিকে উত্যক্ত করত। গত সোমবার সে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে আল আমিন ফের তাকে উত্ত্যক্ত করে। ওই শিক্ষার্থী বাড়ি গিয়ে ঘটনাটি তার মাকে জানালে তার নানা আলী আজগর থানায় গিয়ে আল আমিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে তদন্ত করতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে আলী আজগরকে তাঁর দোকানে গিয়ে কুপিয়ে আহত করে আল আমিনসহ কয়েকজন। খবর পেয়ে আলী আজগরের দুই ছেলে লিয়াকত ও সায়েম এগিয়ে গেলে তাদেরকেও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় আলী আজগরকে উদ্ধার করে প্রথমে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এনাম মেডিকেলে নেওয়া হলে তিনি মারা যান।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌফিক আজম বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পরই সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্ত পুলিশ আসামিকে বাড়িতে পায়নি। আমরা আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আলী আজগরের মরদেহ সাভার থানা পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে।’