আবাসন সংকট নিরসনসহ ৩ দফা দাবিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের লংমার্চ টু যমুনা কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে পুলিশ। আজ দুপুরে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে তাঁদের ছত্রভঙ্গ করা হয়।
সকাল ১০টার দিকে ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। পরে, সেখান থেকে যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন তাঁরা। এ সময় তাঁরা দাবি আদায়ে নানা স্লোগানও দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে বেলা সাড়ে ১২টার পর কাকরাইল মসজিদের সামনে লংমার্চে বাধা দেয় পুলিশ। পুলিশের সঙ্গে লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। পরে আন্দোলনকারীরা মৎস্য ভবন মোড়ের দিকে চলে যান।
এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী রয়েছেন। লংমার্চে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁরা আরও জানান, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা যে তিন দফা জানিয়েছেন সেগুলো হলো– ১. আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন বৃত্তি ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে কার্যকর করতে হবে। ২. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত পূর্ণাঙ্গ বাজেট কাটছাঁট না করেই অনুমোদন করতে হবে। ৩. জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ পরবর্তী একনেক সভায় অনুমোদন করে অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়ন করতে হবে।
এর আগে গতকাল মঙ্গলবার শিক্ষক-শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এতে বাজেট বৃদ্ধি ও আবাসন সংকট নিরসন নিয়ে আলোচনা হলেও দাবি মানা হয়নি বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। পরে, জবি ঐক্য-নামে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম থেকে তিন দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দেওয়া হয়।