১৪ ঘণ্টা পর নরসিংহপুর ঘাট দিয়ে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক

শরীয়তপুর ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরের নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ইজারা নিয়ে দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের জেরে ফেরি চলাচল ১৪ ঘণ্টা বন্ধ ছিল। এতে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় নরসিংহপুর ঘাট এলাকায় অন্তত দেড় শতাধিক যানবাহন আটকা পড়ে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

স্থানীয় ও ঘাট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শরীয়তপুর-চাঁদপুর রুটের নরসিংহপুর ফেরিঘাটের ইজারা নিয়ে সখিপুর থানা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোমিন দিদার ও সখিপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইদুল ইউসুফ জিসান বালার বিরোধ চলছিল। বৃহস্পতিবার রাতে ঘাটের ইজারা উঠানোকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। এতে এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে হয়ে যায়।

এ সময় ঘাটে ফেরি পারাপারের অপেক্ষায় ট্রাক, বাস ও ব্যক্তিগত দেড় শতাধিক গাড়ি আটকা পড়ে। ভাঙচুর করা হয় দুটি ট্রাক এবং কয়েকজন চালককে মারধর করে দুর্বৃত্তরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে শুক্রবার বিকেলে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়। 

ট্রাক ড্রাইভার আনারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বেনাপোল থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য বৃহস্পতিবার রাতে নরসিংহপুর ফেরি ঘাটে আসি। রাত ৩টার দিকে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পারাপারের জন্য ঘাটে অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ দুইটি মোটরসাইকেলে ছয়জন লোক এসে আমার ট্রাকের সামনের গ্লাস ভেঙে ফেলে। আমি প্রতিবাদ করলে আমাকে মারধর করে।’

ট্রাক চালক তপন দাস বলেন, ‘আমরা ফেরি পারাপারের জন্য অপেক্ষায় ছিলাম। দুই কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট ছিল। আমরা ভোগান্তিতে ছিলাম। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় ফেরি পারাপার হচ্ছি।’

এসব বিষয় নিয়ে মাইদুল ইউসুফ জিসান বালা বলেন, ‘সরকার এক বছরের জন্য আমাকে ঘাট ইজারা দিয়েছে। কিন্ত প্রাক্তন ইজারাদার মোমিন দিদার ইজারার জন্য আপিল করেছে। তিনি নাকি উচ্চ আদালত থেকে ইজারার পক্ষে রায় পেয়েছেন। তবে আদালত থেকে আমি কোন কাগজ হাতে পাইনি। যেহেতু এক বছর পূর্ণ হয়নি, সেহেতু আমিই তো ইজারাদার। আর যদি রায় পেয়েও থাকে তাহলে বিআইডব্লিউটিসি এবিষয়ে ব্যবস্থা নেবে, মোমিন দিদারতো নিতে পারে না। তিনি এখন গাড়ি বন্ধ করে তাঁর লোকজন নিয়ে চাঁদাবাজি করছে। এই বিষয় নিয়েই ঝামেলা চলছিল।’

চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করে মোমিন দিদার বলেন, ‘বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালত থেকে আমি ইজারাদার হিসেবে রায় পেয়েছি। পরে আমার লোকজন ফেরিঘাটে কাজ করছে। কিন্ত জিসান বালা বিভিন্নভাবে বাধা প্রদান করছেন। এই রুটের গাড়িগুলো উল্টো পথে ফিরিয়ে দিচ্ছে।’

নরসিংহপুর ফেরিঘাট বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক ইকবাল হোসেন বলেন, ইজারা ওঠানোকে কেন্দ্র করে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনকে জানালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।