ছেলের মৃত্যুর আগের কথাগুলো এভাবেই কান্না জড়িত কণ্ঠে বলছিলেন উত্তরায় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত আব্দুল্লাহ ছামীমের (১৪) মা জুলেখা বেগম।
রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ত আব্দুল্লাহ ছামীম। তাদের বাড়ি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএম খালি মাঝিকান্দি গ্রামে। আজ মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স করে ছামীমের লাশ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। পরে সকাল ৯টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হয়। নিহতদের গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম।
আব্দুল্লাহ ছামীমের মা জুলেখা বেগম বলেন, ‘মুঠোফোনে কল আসে, আপনার ছেলে আব্দুল্লাহ ছামীম বিমান দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে, আপনি তাড়াতাড়ি আসেন। পরে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই, গিয়ে বাবাটাকে দেখতে পাই। কিন্তু হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আমরা কোনো অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পরে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাই, তাতে আবার এসি নাই। পরে ওই অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে ভর্তি করা হয় ছামীমকে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১১টার দিকে মারা যায় আমার ছেলে ছামীম।’
ছামীমের পাশের বাড়ির মজিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদ ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গ্রামের বাড়িতে আসতো ছামীম। তার মৃত্যুর খবর শুনে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। গ্রামের মানুষ তাকে একনজর দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিল। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে অ্যাম্বুলেন্স আসার শব্দ শুনে গ্রামের মানুষ যেন জেগে ওঠে। মুহূর্তেই বাড়িতে লোকজন ভরে যায়। স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে আকাশ ভারী হয়ে ওঠে।’
সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ছামীমরা দুই ভাই, এক বোন। বড় বোন অনিকা পড়াশোনা শেষ করে বেকার আছেন। আর ভাই জাহিদ ঢাকার একটি কলেজে আইন বিভাগে পড়াশোনা করছেন। তিনজনের মধ্যে ছামীম সবার আদরের ছিল।’