ফরিদপুরে মুক্তিপণ না পেয়ে স্কুলশিক্ষার্থীকে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

ফরিদপুরের মধুখালীতে নিখোঁজের তিন দিন পর বড় গোপালদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিম তালুকদারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে ওই শিশুকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তুহিন শেখ নামের একজনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গতকাল সোমবার রাতে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বড়গাতি গ্রাম থেকে তুহিন শেখকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যমতে জেলার মধুখালী উপজেলার কোরকদী ইউনিয়নের বাঁশপুর গ্রামে জমির আইলে আবর্জনার নিচ থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। 

নিহত তামিম বড় গোপালদী গ্রামের সৌদি প্রবাসী শামিম তালুকদারের ছেলে। আজ মঙ্গলবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।

নিহত শিশুর পরিবার জানায়, ১৫ আগস্ট বিকেলে তামিম ঘুরতে বের হয়। এরপর আর বাড়ি না ফেরায় সন্ধ্যায় পরিবারের পক্ষ থেকে খোঁজ শুরু হয়। ওই দিন রাতেই ফোনকল করে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দেওয়ার প্রস্তুতিও ছিল পরিবারের, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি শিশুটিকে।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান জানান, তুহিন প্রায় এক বছর যাবৎ গৃহপরিচারক হিসেবে তামিমদের বাড়িতে কাজ করতেন। এ সুযোগে পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের অভিযোগের পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গতকাল সোমবার রাতে মাগুরার মোহাম্মদপুর উপজেলার বড়গাতি গ্রামের বাসিন্দা তুহিন শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে অনুযায়ী শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ওসি আরও জানান, মুক্তিপণের দাবিতে শিশুটিকে অপহরণ করে হত্যা মামলায় তুহিন শেখসহ দুইজনকে ফরিদপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।