যৌথবাহিনীর দফায় দফায় অভিযানেও রাজধানীর মোহাম্মদপুরবাসীর আতঙ্ক কাটছে না। সোমবারও একই রাতে পুলিশসহ ৩ জনের উপর হামলা আর গ্যারেজ থেকে ৫টি রিকশা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা বলছেন, সেখানে অন্তত ১০ থেকে ১২টি বখাটে কিশোর চক্র সক্রিয় রয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের নবীনগর হাউজিংয়ের ছয় নম্বর রোড। পহেলা সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৫০ মিনিট। সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে, অটোরিকশা গ্যারেজে কয়েকজন হামলা চালায়। একজনকে কুপিয়ে চুরি করা হয় দুটি অটোরিকশা।
মঙ্গলবার সকালে গ্যারেজে গিয়ে মালিককে পাওয়া যায়নি। তবে গ্যারেজের এক কর্মী বলেন, ‘১০–১২ জন ছিল। প্রত্যেকের হাতে ছুরি-চাপাতি ছিল। ভেতরে ঢুকে দুটো গাড়ি নিয়ে গেছে। আরেকজন ড্রাইভারের কাছ থেকে জোর করে নিতে গিয়েছিল, কিন্তু ড্রাইভার দেয়নি। এজন্য তাকে কোপ মেরেছে।’
পাশের গ্যারেজে গিয়ে দেখা যায়, তারাও আতঙ্কে রয়েছেন। জানান, নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজেরাই পাহারা দিচ্ছেন গ্যারেজ। স্বামী রাতে পাহারা দেন, আর স্ত্রী থাকেন দিনে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘আতঙ্ক তো আছেই। এটা তো বলার মতো না। সবারই তো জানের মায়া আছে। রাত ১০–১১টার পরে রাস্তায় চলা খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। কোনো নিরাপত্তা নেই। কুপিয়ে সব নিয়ে যায়।’
একই রাতে আদাবরে জিম্মি রাখা যুবককে উদ্ধারে গেলে পুলিশ সদস্যসহ তিনজনকে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক করা হয় শতাধিক জনকে। তাদের মধ্যে ৫ জন সরাসরি হামলায় জড়িত।
ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া) তালেবুর রহমান বলেন, ‘এই ঘটনায় যারা জড়িত প্রাথমিকভাবে ৫ জনকে শনাক্ত করা গেছে। এখানে যারাই জড়িত থাকুক, পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে। এটা আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই। পুলিশের ওপর আক্রমণকারীদের কোনোভাবেই আমরা বরদাস্ত করব না। এদের আইনের আওতায় আনতে আমরা বদ্ধপরিকর।’
বারবার অপরাধের ঘটনায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে মোহাম্মদপুরবাসীর মধ্যে। ভয়ে কথাও বলতে চান না অনেকেই।
এদিকে, ঘটনার পর থেকে আবারও বিশেষ অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার রাতে ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।