ঢাকা উত্তর সিটির উচ্চমান সহকারী এখন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তৃতীয় শ্রেণির উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক এবং কেয়ারটেকার এখন প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা। এমনকি অষ্টম শ্রেণি পাস অফিস সহায়ককে দেওয়া হয়েছে হিসাব সহকারীর অতিরিক্ত দায়িত্ব। এসব দায়িত্ব দেওয়াও হয় সচিবের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ মামুন উল হাসানের স্বাক্ষরে।

অভিযোগ উঠেছে, মোহাম্মদ মামুন উল হাসান দায়িত্বে এলেই এমন নিয়মবহির্ভূত দায়িত্ব দিতে থাকেন। এমনকি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বিদেশে থাকায় একটি আদেশ বাতিলের অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ঢাকা উত্তর সিটির ৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় ১০ সেপ্টেম্বর। এতে তৃতীয় শ্রেণির উচ্চমান সহকারী কাম হিসাব রক্ষক তানিয়া আহসান এবং কেয়ারটেকার অরুণ চন্দ্র দাস পান নবম গ্রেডের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তার দায়িত্ব।

দুজনের কারও ক্ষেত্রেই মানা হয়নি চাকরি বিধিমালা। একদিনের মধ্যে ফাইল অনুমোদন করে দায়িত্ব দেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার তাদের পাওয়া যায়নি নতুন কর্মস্থলে।

গত ৯ সেপ্টেম্বর আরেকটি অফিস আদেশে ২০তম গ্রেডের অষ্টম পাশ অফিস সহায়ক জাকির হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয় রাজস্ব বিভাগের হিসাব সহকারীর। কীভাবে দায়িত্ব পেলেন জানতে ডিএনসিসির অঞ্চল পাঁচের অফিসে গেলে সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান জাকির হোসেন।

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ডিএনসিসির সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মামুন-উল ইসলামের মুখোমুখি হলে তিনি ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘এসব আদেশ অনুমোদন হয়েছে আগেই। তবে নথি ঘেঁটে দেখা গেল ফাইল অনুমোদন এবং আদেশ হয়েছে একই দিনে।’ 

এই সাক্ষাৎকার নেওয়ার কিছুক্ষণ পরই বাতিল হয় জাকির হোসেনের আদেশ। প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বিদেশে থাকায় আদেশ বাতিলের লিখিত অনুমোদন হলো কীভাবে? 

এসব আদেশের পেছনে অন্য অভিপ্রায় দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। 

নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মোহম্মদ খান বলেন, ‘এটা যদি করা হয় তাহলে আমাদের দেশের যেকোনো অফিসের যে শৃঙ্খলা, সেটা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হবে।  এ ধরনের একটা বাজে নজির পরবর্তীতে পুরো সিস্টেমটাকে কলাপস করার জন্য যথেষ্ট। যারা দিচ্ছেন তারা কী করে দিচ্ছেন। তারা তো দীর্ঘদিন ধরে সরকারি চাকরিতে আছেন, তারা তো এ ধরনের নিয়মকানুন দেখে অভ্যস্ত থাকার কথা। এর পেছনে অন্য কোনো গল্প আছে কি না, কাউকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কোনো প্রণোদনা কাজ করে কি না– এ বিষয়গুলো ক্ষতিয়ে দেখা উচিত।’ 

বিদেশে থাকায় এসব বিষয়ে কথা বলতে যোগাযোগ করা হলেও বক্তব্য মেলেনি ডিএনসিসি প্রশাসকের।