ফরিদপুরে চিকিৎসকের অবহেলায় গৃহবধূর মৃত্যুর অভিযোগ

ফরিদপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অপারেশনের কয়েক ঘণ্টা পর মারা গেছেন এক গৃহবধূ। স্বজনদের দাবি, যে চিকিৎসকের অপারেশন করার কথা ছিল তিনি অপারেশন না করে অন্য চিকিৎসক অপারেশন করায় মারা গেছে ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শান্তির দাবি নিহতের স্বজনদের। এদিকে, সিভিল সার্জন বলছেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই নেওয়া হবে ব্যবস্থা।

মাত্র ৬ মাস আগে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের লামিয়া আক্তারের (২১) সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় একই এলাকার হিমেল খানের (২৫)। বিয়ের পর দাম্পত্য জীবন সুখেই কাটছিল তাদের। হঠাৎ করেই লামিয়ার পেটে ব্যাথা অনুভব করে। পরে ফরিদপুর শহরের আরোগ্য সদন প্রাইভেট হাসপাতালে এনে চিকিৎসকের স্মরণাপন্ন হন। চিকিৎসকরা জানান, তার অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলিতে পাথর রয়েছে, অপারেশন করতে হবে।

গত শুক্রবার দুপুরে অপারেশনের জন্য শহরের আরোগ্য সদন হাসপাতালে ভর্তি হন লামিয়া। পরদিন গতকাল শনিবার বিকালে তার অপারেশন সম্পন্ন হয়। অপারেশন করেন সার্জন ডা. রতন সাহা। কয়েক ঘণ্টা পর লামিয়ার স্বজনরা জানতে চাইলে বলা হয় রোগী সুস্থ আছে, পরে দেখা করা যাবে। কিন্তু বিকেল গড়িয়ে রাত ৯টার দিকে জানানো হয় লামিয়ার শারীরিক অবস্থা ভালো নেই, তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পক্ষ থেকে হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হলে আজ রোববার ভোররাতে মারা যায় লামিয়া।

রোগীর স্বজনদের দাবি, ডা. রতন অপারেশন না করে অন্য কাউকে দিয়ে অপারেশন করিয়েছেন, এ কারণেই লামিয়ার মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসকের অবহেলার কারণেই মারা গেছে লামিয়া। দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তির দাবি স্বজনদের।

তবে হাসপাতালটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. আ. স. ম. জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিটো বলেন, ‘অপারেশন ডা. রতন সাহাই করেছেন। অপারেশনে কোনো ভুল হয়নি বা চিকিৎসকের অবহেলা ছিল না। মূলত অ্যানেসথেশিয়া করার কারণে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় মারা গেছে লামিয়া। রোগীকে অপারেশন করতে হলে অজ্ঞান করতে হবেই, সকলের শারীরিক অবস্থা এক হয় না। লাখে একজন রোগীর এ ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে। এ কারণে আমরা দুঃখিত।’

এদিকে, ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরেছি। জানা মাত্রই তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হচ্ছে। তদন্তেই মূল ঘটনা বের হয়ে আসবে। দোষী হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

লামিয়া আক্তার জেলার চরভদ্রাসন উপজেলা সদরের এমপি ডাঙ্গি গ্রামের বাবুল সিকদারের মেয়ে। লামিয়া এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখা করত।