শারদীয় দুর্গাপূজার অষ্টমীতে কুমারী বালিকার মধ্যে বিশুদ্ধ নারীর রূপ কল্পনা করে তাকে দেবীজ্ঞানে পূজা করেছেন ভক্তরা। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠে এবারও আড়ম্বরপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কুমারী পূজা উদযাপন করেন হাজারো সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
এবার কুমারী রুপে পূজিত হন, সাড়ে ছয় বছরের লাবন্য চ্যাটার্জি। নীলফামারীর মেয়ে লাবন্যর মায়ের নাম বৃষ্টি চ্যাটার্জি ও বাবা লিটন চ্যাটার্জি। কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে নারীশক্তিকে সম্মান জানিয়েছেন ভক্তরা।
রাজধানীর রামকৃষ্ণ মিশনে এবার কুমারী পূজা শুরু হয় বেলা ১১টায়। এর আগে, মহাঅষ্টমী পূজা আরম্ভ হয় সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। ভক্তরা দেবির চরণে পুষ্পাঞ্জলি দেন ১০টা ৩০ মিনিটে। এর পরই কুমারীরুপে দেবীর আর্বিভাব।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বলেন, কুমারী পূজার মাধ্যমে নারীশক্তিকে পূজা করা হয়। প্রতিটি নারীর মধ্যেই দেবীশক্তি বিদ্যমান।
হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত এক থেকে ১৬ বছরের অবিবাহিত কুমারী নারীকে দেবীজ্ঞানে পূজা করা হয়।
ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ জী মহারাজ বলেন, এবার কুমারী রুপে পূজিত হন নীলফামারীর লাবন্য চ্যাটার্জি। যার শাস্ত্রীয় নামকরণ করা হয় মালিনী কুমার দে।
শাস্ত্রমতে, কুমারী পূজার উদ্ভব হয় কোলাসুর নামের অসুরকে হত্যার মধ্য দিয়ে। দেবী দূর্গা কুমারীরুপে পৃথিবীতে এসে কোলাসুরকে বধ করেন। তাই ভক্তদের প্রত্যাশা, যুগে যুগে কুমারী দেবী বধ করবেন কোলাসুর রুপী নারী নিপীড়নকারীদের।