শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক

সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সিক্ত হলেন ভাষা সংগ্রামী আহমদ রফিক। শনিবার সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে নিয়ে আসা হয় তার মরদেহ। সেখানে সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষ শ্রদ্ধা জানায় তাকে। এসময় তারা বলেন, আহমদ রফিকের চিরবিদায়ের ক্ষতি অপূরণীয়, তার অবদান জাতি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।

বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়ের প্রতীক ভাষা আন্দোলন। সেই আন্দোলনে তরুণ বয়সে যিনি বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন শত্রুর বন্দুকের সামনে, লিখেছেন কবিতা, প্রবন্ধ, করেছেন রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে গবেষণা। তিনি ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক।

পঞ্চাশের দশকের অগ্নিঝরা সময়ে তিনি ছিলেন সেই কণ্ঠস্বরদের একজন, যারা সাহসের সাথে বলেছিলেন—আমার ভাষা আমার অধিকার।

জীবদ্দশায় যে শহীদ মিনারে অসংখ্যবার দাঁড়িয়েছেন বিভিন্ন দাবিতে, আজ সেখানেই সর্বসাধারণের শ্রদ্ধায় সিক্ত হলো আহমদ রফিক।

চিকিৎসা পেশা ছেড়ে তিনি প্রবেশ করেছিলেন ভাষা ও সাহিত্যের জগতে। সেখানেই খুঁজে নিয়েছিলেন তাঁর আত্মার ঠিকানা। রবীন্দ্রচিন্তা ও বাংলা ভাষার চর্চায় তাঁর অবদান অসামান্য। স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি পেয়েছেন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশে পদকসহ অসংখ্য সম্মাননা।

বৃহস্পতিবার বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয় আহমদ রফিকের। মৃত্যুর আগে চিকিৎসা গবেষণার জন্য মরণোত্তর দেহ দান করেন তিনি।

আহমদ রফিক জন্মেছিলেন ১৯২৯ সালের সেপ্টেম্বরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শাহবাজপুরে।

ভাষা সংগ্রাম থেকে লেখালেখি, রবীন্দ্রগবেষণা, কবিতা, প্রবন্ধ—সব জায়গাতেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। সেই অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে জাতি, তিনি থাকবেন আপামর জনতার হৃদয়ে।