জবির জুবায়েদ হত্যা: রাজনৈতিক উদ্দেশ্য দেখছে ছাত্রদল

রোববার পুরান ঢাকার বংশালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ রহমানকে হত্যার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির সভাপতি। তিনি দাবি করেছেন, হত্যাকাণ্ডটি ছিল পরিকল্পিত। সহপাঠীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের দাবিতে রাতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পুলিশ জানিয়েছে, তথ্য–প্রমাণের ভিত্তিতে দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে।

এ ঘটনায় জুবায়েদের টিউশন ছাত্রী ও তার পরিবারকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

রোববার সন্ধ্যার দিকে পুরান ঢাকার আরমানিটোলার একটি ভবনের সিঁড়িতে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে জানা যায়, মরদেহটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হোসেনের। ওই ভবনের একটি বাসায় টিউশন করাতেন তিনি।

নিহত জুবায়েদ রহমান। ফাইল ছবিসিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বিকেল সাড়ে ৪টার পর দুই ব্যক্তি ভবনটি থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন সহপাঠীরা। জুবায়েদ হত্যার প্রতিবাদে ভবনের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

এই হত্যাকাণ্ডকে পরিকল্পিত বলে মনে করছে ছাত্রদল। সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ওকে হত্যা করা হয়েছে। আর ছুরিকাঘাতটা যে করা হয়েছে, সেটা ছিল পেশাদার খুনির মতো। কারণ আঘাতটা যদি এলোমেলো হতো, তাহলে হয়তো সে মারা যেত না।’

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম। তিনি বলেন, ‘সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই এসেছেন। আমরা কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি। আশা করি, যারা এই ঘটনার জন্য দায়ী তারা দ্রুত সনাক্ত হবে এবং আইনের আওতায় আসবে।’

এরই মধ্যে জুবায়েদের টিউশন ছাত্রী ও তার পরিবারকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন তথ্য–প্রমাণ বিশ্লেষণ করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ বলছে, হত্যায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় মামলা হবে। এরপর আমরা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আগাবো। পুলিশ ইতোমধ্যেই প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে।’

জুবায়েদ হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে ওঠে বংশাল এলাকা। তাঁতিবাজার মোড়ে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। নিহত জুবায়েদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯–২০ সেশনের ১৫তম ব্যাচের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন।