কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ভাসমান নৌকায় চলছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এসব বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে প্রত্যন্ত হাওর জনপদের পিছিয়ে পড়া দরিদ্র শিশুরা। ভবিষ্যতে এমন বিদ্যালয়ের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে বেসরকারি সংস্থার কর্তৃপক্ষ।
নিকলীর হাওরে দ্বীপ গ্রাম ছাতিরচর ও শিংপুরের হাওর পাড়ে ভিড়ানো লাল-সবুজ রংয়ের কয়েকটি নৌকা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে পণ্য পরিবহনের নৌকা এগুলো। তবে, কাছে গেলেই প্রতিটি নৌকায় দেখা যায় শিশুদের পড়ালেখার ব্যস্ততা।
২০১০ সালে দুইটি নৌকায় ভাসমান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করে বেসরকারি সংস্থা পপি। বর্তমানে দুই এলাকায় ৮টি নৌকায় পড়ালেখা করছে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী। বিনা খরচে সন্তানদের ভালো মানের শিক্ষা নিশ্চিত হওয়ায় খুশি অভিভাবকেরা।
এক অভিভাবক বলেন, ‘আমাদের অনেকেরই চলার মতো সামথ্য নাই। এই ভাসমান স্কুল আসায় আমাদের উপকার হয়েছে, আমাদের বাচ্চাদের উপকার হয়েছে।
ভাসমান স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি স্থায়ী স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। রয়েছে নিয়মিত খেলাধুলা ও সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থাও।
স্কুলের দায়িত্বে থাকা এক নারী শিক্ষক বলেন, ‘ক্লাস শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা আগে বিভিন্ন ঘাটে গিয়ে বাচ্চাদের নৌকায় তুলি।’
স্কুলের দায়িত্বে থাকা আরেকজন বলেন, ‘বৃহস্পতিবারে আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা বাচ্চাদের মন বিকশিত করার চেষ্টা করি। যার ফলে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে আসতে আগ্রহী থাকে।’
নিকলীর পপি ভাসমান বিদ্যালয়ের প্রকল্প সমন্বয়কারী মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এইখানে বিনামূল্যে সকল ধরনের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়। পঞ্চম শ্রেণিতে পাঠাদানের পর ষষ্ঠ শ্রেণিতে আমরা নিজ দায়িত্বে তাদের ভর্তি করি। ভবিষ্যতে আমাদের এই স্কুল সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
প্রতিবছর ভাসমান স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে শতাধিক ছাত্র-ছাত্রী। ভর্তি হয় উচ্চ বিদ্যালয়ে।