টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জমি উদ্ধারের নামে মার্কেট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে পৌরসভার বিরুদ্ধে। বিষয়টি নিয়ে দুই সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চলছে চিঠি চালাচালি।
এদিকে, পৌরসভার বরাদ্দ পাওয়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, নির্ধারিত টাকা দিয়েই দোকান বরাদ্দ নিয়েছেন তারা।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার ফুটপাত ও জমি দখল করে গড়ে উঠেছিল বেশকিছু অস্থায়ী দোকানপাট। সম্প্রতি সেগুলো উচ্ছেদ করে পৌরসভা। পরে সেখানে নতুন করে দোকান নির্মাণের পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে সড়ক ও জনপথ বলছে, এই জায়গাটি তাদের মালিকানাধীন। অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া মার্কেট নির্মাণ করায় ভূঞাপুর পৌরসভা ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলেও জানান সওজের এই কর্মকর্তা।
টাঙ্গাইল সওজের উপ–সহকারী পরিচালক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের কোনো জমি ব্যবহার করতে চাইলে নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিয়ে তারপরে সেটা ব্যবহার করতে হয়। সেক্ষেত্রে সড়ক বিভাগ কোনো অনুমাদন দিতে পারে না। আমরা এ ধরনের কোনো অনুমোদন দেওয়ার জন্য আবেদন পাইনি। আমরা ইতোমধ্যে ওই স্থাপনাসহ বাজারের আরও কিছু স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেয়েছি।’
এদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন পৌরসভা টাকার বিনিময়ে তাদেরকে দোকান বরাদ্দ দিলেও কোনো কাগজপত্র দেয়নি। দোকান নির্মাণের খরচ বাবদ টাকা দেয়া লাগবে বলেও জানান তারা।
এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘পৌরসভা থেকে একটা ভাড়া বলছে– আপনারা মাসে একটা টাকা দেবেন। পাঁচশো টাকা ভাড়া ধরা হইছে পৌরসভা থেকে।’
অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘হিসাব করা হয় নাই। হিসাব–কিতাব কইরা যেটা আসবে সেটা আমাদের দিতে হইব।’
ভুঞাপুর পৌরসভা প্রশাসকের দাবি, জমিটি দীর্ঘদিন বেদখলে ছিল। নাগরিকদের সুবিধা দিতেই মার্কেটটি নির্মাণ করা হয়েছে। বিষয়টি প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে বলে দাবি তার।
ভূঞাপুর পৌর প্রশাসক রাজিব হোসেন বলেন, ‘একটা প্রশ্ন উঠেছে যে, সড়ক বিভাগের জায়গায় আমি কেন দোকানটা করে দিলাম। তখনও কিন্তু তারা দোকান তুলত। তখন তারা নিজেদের মতো করে তুলত। এই চিঠির প্রেক্ষিতে তারা আমাদের কিছু বলতে পারবে না। অনুমতি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তারপরও অফিসিয়াল একটা ডেকোরাম মেইনটেইন করা। এ কারণে আমি অফিসিয়াল চিঠিগুলো দিয়েছি।’
পৌরসভা ও সওজের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। আইন অনুযায়ী সমাধানের তাগিদ দিয়ে
স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত সমস্যা না মেটালে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।