আওয়ামী লীগের ভোটারদের উদ্দেশে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর বলেছেন, ‘আপনারা ভোট দিলে বিএনপিকে দেবেন, না দিলে ঘরে শুয়ে থাকেন আমাদের আপত্তি নাই।’
গত শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে শরীয়তপুর নড়িয়ার বাংলা বাজার এলাকায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
এদিকে তাঁর এই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে সমালোচনার মুখে তিনি ভিডিওটি তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে সরিয়ে ফেলেন। ততক্ষণে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে মতিউর রহমান সাগরকে বলতে শোনা যায়, ‘এই হাউস থেকে আরও কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে দিই, আওয়ামী লীগের যে সমস্ত ভাইয়েরা এলাকায় আছেন, যারা বিগত দিনে আকাম-কুকাম করেছেন, বিভিন্ন অরাজকতা করেছেন, আপনাদের আমরা মাফ করে দেব, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে চাই না। আপনারা এলাকায় থাকবেন, আপনারা চিন্তা কইরা দেখেন আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় আসতেছে, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে হইলেও, আপনাদের সুবিধা-অসুবিধার জন্য হইলেও, আপনারা বিএনপির পাশে থাকবেন। যদি আপনাদের দল কখনো পুনর্বাসন হয়, আপনাদের দল যদি আবার কখনো এ দেশে রাজনীতি করার সুযোগ পায়, তখন যদি আপনারা আমাদের ছেড়ে চলে যান, আমাদের আপত্তি থাকবে না। কিন্তু আপনারা আমাদের চোখের সামনে দিয়ে ওই জামায়াত-রাজাকারদের ভোট দেবেন, আর আপনারা বাড়িতে শান্তিতে থাকবেন, ওই শান্তিতে কিন্তু আমি থাকতে দেব না। আওয়ামী লীগকে বলি, আপনারা ভোট দিলে বিএনপিকে দেবেন, না দিলে ঘরে শুয়ে থাকবেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগর বলেন, ‘বক্তব্যটা ছিল ১৩ মিনিট ২৯ সেকেন্ডের। ওই বক্তব্যটাকে কাটছাঁট করা হয়েছে। আমার এলাকায় সমাজের লোকজন নিয়ে আমি সেদিন বসছিলাম, এখানে বাহিরের বিএনপির কোনো লোকজন ছিল না। এটা ছিল ঘরোয়া আলোচনা। আমি কথা বলছি, কিছু কথা মাঝখান থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’
নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ রয়েল বলেন, ‘এই বক্তব্যটা বিএনপির সকলস্থরের নেতা-কর্মীদের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। আমরা এই ধরনের বক্তব্য কখনোই প্রত্যাশা করি না। বক্তব্যটা তাঁর নিজ বাড়িতে দিয়েছেন। রাজনৈতিক কোনো সভায় না। বক্তব্যটা তাঁর নিজের। দল কখনোই এমন বক্তব্য সমর্থন করে না।’
এ বিষয়ে শরীয়তপুর-২ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতিপালন করতে হবে। আমি ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে এখনো কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে নির্বাচনী আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’