সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্বে ছুরিকাঘাতে আহত স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে সিনিয়র-জুনিয়র কথাকাটাকাটির জেরে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে আহত মোঃ রোমান ফকির (১৫) নামের সপ্তম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর আজ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। 

আজ সোমবার বেলা সাড়ে তিনটার দিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রোমান। পরে বিকেল চারটার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত রোমান শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি গ্রামের মোঃ জালাল ফকিরের ছেলে। সে কামরাঙ্গীরচরে সানলাইট কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা পেশায় একজন রিকশাচালক। বর্তমানে পরিবারের সাথে কামরাঙ্গীরচরের পূর্ব রসুলপুরের ৭নং গলিতে ভাড়া থাকতো রোমান।

শনিবার রাতে কামরাঙ্গীচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ফারুক এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে কামরাঙ্গীরচর থানার পূর্ব রসুলপুরের ৭ নম্বর গলিতে এই ঘটনা ঘটে। পরে আজ বিকেলের দিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ওই শিক্ষার্থী। 

তিনি আরও জানান, নিহত রুমান তার বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। এই সময়ে সাগর এসে রুমানকে উদ্দেশ‍্য করে 'সিনিয়র মান্য না করা' এবং অন্য গলিতে আড্ডা দেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন তোলে। এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সাগর উত্তেজিত হয়ে তার হাতে থাকা ছুরি দিয়ে রুমানের পেটে একাধিকবার, ডান হাতের বাহুতে ও বাম কব্জিসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে। এতে রোমান গুরুতর আহত হয়।

পরিবারের বরাত দিয়ে ওসি আরও জানান, রুমান দুই হাত দিয়ে পেট চেপে ধরলে সাগর পিঠে ছুরি ঢুকিয়ে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে প্রথমে কামরাঙ্গীরচর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠায়। ঢামেকে অস্ত্রোপচার করে তার পিঠ থেকে ছুড়িটি বের করা হয়। 

তবে ২০ ডিসেম্বর রাতে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। পরে তাকে মালিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বিকেলের দিকে মারা যায় শিক্ষার্থী রোমান। 

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, রোমানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন এবং পরে হামলাকারী সাইফুল ইসলাম সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।