দায়সারা খননে নদীতীরে ধস, ২৫০ কোটির প্রকল্পেও কাটেনি দুর্দশা

দখল-দূষণ আর নাব্যতা সংকট দূর করতে ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্পেও কুমার নদের দুর্দশা ঘোচেনি। নদীতে থাকে না পর্যাপ্ত পানি। উল্টো দায়সারা খননে বেড়েছে নদীতীরে ধস। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পে নদীর তীর সংরক্ষণ ও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার নানা পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ফরিদপুর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত কুমার নদের প্রাণ ফেরাতে ২০১৬ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রায় ২৫০ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয়। এই প্রকল্পের আওতায় নদের ৭১ কিলোমিটার অংশ পুনঃখনন, ৬১টি পাকা ঘাট নির্মাণ ও নদীর পাড়ে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা।

২০১৯ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। খুলনা শিপইয়ার্ড কোম্পানির মাধ্যমে সাব-কনট্রাক্টর হিসেবে কাজটি বাস্তবায়ন করে বেঙ্গল গ্রুপের প্রতিষ্ঠান ফিউচার ইনফ্রাস্ট্রাকচার।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নদের দখল ও দূষণ কমেনি। বরং নদীর বুকে বর্জ্য ফেলা বেড়েছে, ফেরেনি নাব্যতাও। পানি না থাকায় নির্মিত ৬১টি পাকা ঘাটের বেশিরভাগই অকেজো। পাশাপাশি পুনঃখননের নামে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটায় বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে ভূমিধস।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব উদ্দিন বলেন, জমি নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়ায় উৎসমুখের ২০০ মিটার অংশে খনন করা যায়নি। দখল ও দূষণমুক্ত করতে না পারার দায়ও চাপালেন অসচেতনতার ওপর।

পুনঃখনন প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ কোটি ঘনমিটার পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করে ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পানিপ্রবাহ না ফেরায় সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয়রা।