জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। কারণ হিসেবে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করেছে কমিশন। প্রার্থীদের সাথে কমিশনের কর্মকর্তারা আলোচনায় বসছেন বলেও জানা গেছে।
একাধিকবার স্থগতি হওয়ায় জকসু নির্বাচন আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না তা নিয়ে আগে থেকেই সংশয় ছিল ভোটার ও প্রার্থীদের মাঝে। তথাপি আজ মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হয়েছে নির্বাচন। ভোটগ্রহণ চলেছে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।
এরপর ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর এক পর্যায়ে যান্ত্রিক ত্রুটির কথা বলে নির্বাচন কমিশন ভোট গণনা বন্ধের ঘোষণা দেয়। পাশাপাশি কমিশন এও জানিয়েছে যে, নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের সাথে তাঁরা আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, জকসু নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৫ জন। কেন্দ্রীয় সংসদের ২১টি পদের বিপরীতে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৫৭ জন প্রার্থী। অন্যদিকে হল সংসদের ১৩টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৩ জন প্রার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ভবনের ৩৯টি কেন্দ্রে আজ ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুরান ঢাকার এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তরিত হয় ২০০৫ সালে। বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরুর পর এবারই প্রথম শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে। প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামোর অভাবে বিগত দুই দশকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি জকসু’র খসড়া নীতিমালা অনুমোদন পেলে নির্বাচন আয়োজনের পথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দেয়।
প্রাথমিকভাবে ২৭ নভেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। সে অনুযায়ী ২৭ অক্টোবর অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসানকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়। এরপর অনুমোদন পায় নির্বাচনের চূড়ান্ত বিধিমালা এবং নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ৫ নভেম্বর। তফসিলে জানানো হয়, ভোট গ্রহণ, ভোট গণনা ও ভোটের ফল প্রকাশ করা হবে ২২ নভেম্বর। এরপর পেছাতে পেছাতে আজ অনুষ্ঠিত হলো বহুল-প্রতীক্ষিত জকসু নির্বাচন।
উল্লেখ্য, সর্বশেষ ১৯৮৭ সালে শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল জগন্নাথ কলেজে।