গোপালগঞ্জে বৈদ্যুতিক ফাঁদ: ইঁদুরের পাশাপাশি মরছে মানুষও

গোপালগঞ্জে বোরো মৌসুমে বৈদ্যুতিক ইঁদুর মারা ফাঁদ যেন মানুষ মারার ফাঁদে পরিনত হয়েছে। গত এক বছরে এ ফাঁদে প্রাণ হারিয়েছে শিশুসহ অন্তত ১২ জন। কোনভাবেই বন্ধ করা যাচ্ছে না এ ফাঁদ। তবে এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সচেতনতার কথা বলছে পুলিশ।  

গত ১৭ জানুয়ারী (শনিবার) রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া গ্রামের সজিব সিকদারের ১০ মাস বয়সী ছেলে সাইফান হাসান ও তার মাসহ তিন জনকে এক সাথে জীবন দিতে হয়েছে বিপদজনক এই ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে। 

গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় কৃষকরা ইঁদুরের হাত থেকে জমির বোরো ধানের চারা বাঁচাতে খোলা সরু জিআই তার দিয়ে জমির চারপাশ ঘিরে তাতে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে তৈরী করে থাকে বৈদ্যুতিক ফাঁদ। রাতে ইঁদুর বীজতলা বা রোপনকৃত ধান নষ্ট করতে গেলে তারে জড়িয়ে মারা যায়। কিন্তু অসাবধানতাবশত কোন মানুষ বা প্রাণী এসব বৈদ্যুতিক ফাঁদে জড়িয়ে পড়লে বা স্পর্ষ করলে বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে ঘটে প্রাণহানির ঘটনা। 

চলতি বছর কাশিয়ানী উপজেলার ৩টি গ্রামে বৈদ্যুতিক ফাঁদে আটকা পড়ে দাদি-নাতিসহ ৫ জন  প্রাণ হারিয়েছেন। আর ১ বছরে জেলায় প্রাণ গেছে অন্তত ১২ জনের। 

স্থানীয়রা বলছেন, এমন বিপদজনক ফাঁদ ব্যবহার না করে আধুনিক পদ্ধতিতে জমির ইঁদুর নিধন করা প্রয়োজন। এসব বৈদ্যুতিক ফাঁদ বন্ধ করে আধুনিক পদ্ধতিতে ফাঁদ তৈরী করা গেলে একদিকে যেমন জীবন বাঁচানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে ইঁদুরে হাত থেকে ক্ষেতের ফসলও রক্ষা করা যাবে। ফলে ইঁদুর তাড়াতে গিয়ে প্রিয়জন হারানোর শোক আর বইতে হবে না কোন পরিবারকে।

এ প্রসঙ্গে গোপালগঞ্জ কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান বলেন, 'শুধু আইন প্রয়োগ করে এমন মরণঘাতক ফাঁদ বন্ধ করা সম্ভব নয়।' প্রাণঘাতী এ সমস্যার সমাধানে জনসচেতনতা তৈরিরও পরামর্শ দেন পুলিশের এই কর্মকর্তা। এছাড়া অপ্রতাশিত প্রাণহানিরোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার পরামর্শ সচেতন মহলের।