নরসিংদীতে কিশোরী আমেনাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় মূল আসামিসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তাররা হলেন নূরা ও হজরত। শুক্রবার রাত ৯টার দিকে গাজীপুরের মাওনা ও ময়মনসিংহের গৌরিপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানান নরসিংদীর পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল ফারুক।
এর আগে শুক্রবার দুপুরে ঢাকা রেঞ্জ পুলিশের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক পাঁচ আসামি গ্রেপ্তারের তথ্য দেন। এ নিয়ে এ হত্যা মামলার মোট নয় আসামির মধ্যে সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এদিকে, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আহম্মদ আলী দেওয়ানকে ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতির পদ থেকে বহিষ্কার করেছে সদর উপজেলা বিএনপি। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু সালেহ চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনের সই করা এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ জানায়, নরসিংদীর মহিষাশুরা এলাকায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় বখাটে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন মিলে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্য আহম্মদ আলী দেওয়ান সালিশের উদ্যোগ নেন। অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন তিনি। ভুক্তভোগী পরিবারকে গ্রাম ছাড়ার চাপও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে।
পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার রাতে মেয়েকে খালার বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন তার বাবা। পথিমধ্যে বখাটেরা কিশোরীকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করে বলে অভিযোগ। পরদিন এলাকার একটি সরিষাক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার রাতে নিহতের মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় নয়জনকে আসামি করে মামলা করেন। এ ঘটনায় সাবেক ইউপি সদস্যসহ এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।