তিন উপদেষ্টার লাল গালিচা খ্যাত বাউনিয়া খাল এখনও দখল এবং দুষণমুক্ত হয়নি। অথচ গেল এক বছরে তৎকালীন প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ খরচ করেছেন ছয় কোটি টাকার বেশি। আট কিলোমিটার খালের পরিষ্কার হয়েছে আড়াই কিলোমিটার। স্থানীয়রা বলছেন, খাল উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি উপদেষ্টারা দিয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন হয়নি।
ঘটনাটি গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারির। রাজধানীর মিরপুরে খাল পরিদর্শনে যান পরিবেশ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা। তাদের জন্য লাল গালিচা বিছিয়ে দেয় উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন প্রশাসন। সেই গালিচায় হেঁটে খাল পরিষ্কারের কার্যক্রমে অংশ নেন উপদেষ্টারা। এমনকি তখনকার প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সঙ্গে আবর্জনা পরিষ্কারের এক্সকাভেটরেও উঠতে দেখা যায় যায় এ তিনজনকে।
এ ঘটনার পর বাউনিয়ার এ খালের পরিচিতি হয়ে যায় লাল গালিচার খাল হিসেবে। তখন খালটি দখলমুক্ত ও নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে দেওয়া হয় নানা প্রতিশ্রুতি। তবে বাস্তবতায় ভিন্ন।
লাল গালিচার খালের কোনো কোনো অংশে এখনও আবর্জনার স্তুপ। যেন হেঁটেই পাড়ি দেওয়া যাবে। এক বছরে খাল পরিষ্কারে প্রশাসক এজাজ খরচ করেছেন ৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এরপরও কি সুফল পেয়েছেন স্থানীয়রা?
স্থানীয়রা জানান, এখানে দুপাশে ১০ ফিট করে রাস্তা নির্মাণের কথা ছিল। সেটি হয় নাই। উপদেষ্টারা প্রথম এসে যেভাবে খালের বিষয়ে বলেছিলেন, আজ পর্যন্ত সে ধরনের কোনো কাজ এখানে করা হয়নি।
এদিকে নতুন দায়িত্ব নিয়ে বাউনিয়া খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন বর্তমান ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন। তিনি জানালেন, বর্ষার আগেই দৃশ্যমান উন্নতি হবে।
নগর পরিকল্পনাবিদেরা বলছেন, খালের উন্নয়নের চেয়ে লোক দেখানো কার্যক্রমে অংশ নিয়েছিলেন উপদেষ্টারা।
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আকতার মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকেরই অনেক বেশি প্রত্যাশা ছিল। উপদেষ্টাদের মধ্যে একজন পরিবেশবাদীও ছিলেন। তবে এ খাল দখল-দুষণমুক্তকরণের বিষয়ে প্রত্যাশিতভাবে ফল পাওয়া যায়নি।’
প্রায় আট কিলোমিটারের খালটি গত এক বছরে আড়াই কিলোমিটার পরিষ্কারের তথ্য দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।