কলেজ ছাত্রীকে অপহরণ করে ধর্ষণের মামলায় যুবকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুরে কলেজ ছাত্রীকে জোড়পূর্বক তুলে নিয়ে ধর্ষণের দায়ে সোহেল শেখ (৩৮) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেছেন আদালত। সেই সাথে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে তাকে।

আজ রোববার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ আদেশ দেন। এসময় দন্ডপ্রাপ্ত সোহেল শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে প্রেরণ করা হয়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের বোয়ালমারী কাজী সিরাজুল ইসলাম মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে কলেজে আসা যাওয়ার পথে উক্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতো সোহেল শেখ নামের এক যুবক। কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সোহেল শেখ ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগীদের নিয়ে ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ওই কলেজ ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে জোড়পূর্বক মাইক্রেবাসে করে তুলে নিয়ে যায়। 

পরে ওই কলেজ ছাত্রীকে বাসায় আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে সোহেল শেখ। কয়েকদিন পর ওই কলেজ ছাত্রী সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে বাড়িতে আসে। এ ঘটনায় ওই কলেজ ছাত্রীর পিতা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক ফরিদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সাক্ষী ও শুনানী শেষে আজ রোববার সোহেল শেখকে যাবজ্জীবন কারাদন্ডের আদেশ দেন আদালতের বিচারক।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-এর পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূইয়া রতন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কলেজে যাতায়াতকালে প্রায় সময় ওই ছাত্রীকে উত্যক্ত করত অভিযুক্ত সোহেল শেখ। এরপর ২০১৬ সালের ১০ সেপ্টেম্বর মেয়েটিকে অপহার করে বিভিন্ন বাসায় রেখে জোরপূর্বক ধর্ষন করে সে। পরে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে আসে মেয়েটি। 

এই ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে অপহার ও ধর্ষন মামলা দায়ের করে। দীর্ঘ স্বাক্ষ্যপ্রমান শেষে বিজ্ঞ বিচারক অভিযুক্ত আসামীকে পৃথক ধারায় অপহারণের দায়ে যাবজ্জীবন সাজা ও ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড, এবং ধর্ষণের অভিযোগেও একই সাজা দেয় আদালত। 

এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সস্তুষ্টি প্রকাশ করে এবং এই রায়ের মাধ্যমে এ ধরণের অপরাধ সমাজ থেকে নির্মুল হবে বলে আশা করেন তিনি।