রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে দুই লঞ্চের সংঘর্ষে এক নারীসহ দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চে নৌকা দিয়ে যাত্রী ওঠানোর সময় ‘আসা-যাওয়া-৫’ নামের অপর একটি লঞ্চ পেছন থেকে চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় এখনো দুজন নিখোঁজ রয়েছেন এবং একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান শুরু করে, যা প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত চলমান ছিল।
এদিকে, নৌপথে ঈদযাত্রার দ্বিতীয় দিনে সদরঘাটে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে বাড়ি ফেরার আশায় অপেক্ষমাণ হাজারো মানুষের ভিড়ে টার্মিনাল এলাকা যেন এক চলমান জীবনের প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হয়। তবে ভিড় ও অব্যবস্থাপনার কারণে যাত্রীদের ভোগান্তির অভিযোগও রয়েছে। অনেকেই প্রিয়জনকে হারিয়ে ফেলছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা ও সহায়তা না থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। যদিও নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রা করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর যুগ্ম পরিচালক মোবারক হোসেন মজুমদার জানান, ঘাটে ১০০টিরও বেশি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কোনো অনিয়ম হলে সংশ্লিষ্ট নৌযানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর সদরঘাট পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ইসরাক হোসেন। তিনি এ ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
এদিকে, যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে প্রবীণ, নারী ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য টার্মিনাল থেকে লঞ্চ পর্যন্ত বিনামূল্যে কুলি সেবা ও হুইলচেয়ারের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা ২৮ মার্চ পর্যন্ত চালু থাকবে।