মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানবপাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো

এক-এগারোর আলোচিত চরিত্র সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিক করে ঢাকা মহানগর ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, তার ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।

ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গতকাল সোমবার মধ্যরাতে রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

আজ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে মহানগর ডিবি প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ফেনী জেলায় ৬টি আর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এলাকায় রয়েছে ৫টি মামলা। এছাড়া দুদকও তার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে। আর সিআইডিতে রয়েছে মানি লন্ডারিং মামলা।

শফিকুল ইসলাম আরও জানান, লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ধরতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি পালিয়ে ছিলেন। তিনি দেশেই আত্মগোপনে ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ফেনী-৩ আসনের সাবেক এমপি লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালের এক-এগারোর পট পরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী। তিনি অপরাধ দমন-সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন এবং পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন।

সমন্বয় কমিটির অধীনেই এক-এগারোর দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়। ২০০৮ সালে তাকে অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার নিযুক্ত করা হয়। এরপর তিন দফায় তাঁর চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি করে তখনকার আওয়ামী লীগ সরকার।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনীর সোনাগাজী-দাগনভূঞা আসনে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যও হন মাসুদ উদ্দিন। অবসরগ্রহণের পর তিনি ঢাকায় রেস্তোঁরাসহ একাধিক ব্যবসায় যুক্ত হন।