কিশোরগঞ্জের ভৈরবে পূর্ব শত্রুতার জেরে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রতিপক্ষের শতাধিক বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার উপজেলার লুন্দিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, বেশ কয়েক বছর যাবত ওই গ্রামের পাগলা বাড়ি ও শেখ বাড়ির মধ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে গত ২৩ মার্চ পাগলা বাড়ির ইমান হোসেন নামের এক কিশোর রাতে বাবার মোবাইল ফোনের জন্য দোকানে মিনিট কার্ড কিনতে যান। এ সময় শেখ বাড়ির লোকজন তাঁর ওপড় দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ইমান হোসেন গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্ব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় ৭৯ জনকে আসামি করে ভৈরব থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের বাবা।
এদিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে শেখ বাড়ির লোকজন পালিয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, পাগলা বাড়ির লোকজন শেখ বাড়ির লোকজনের বাড়ি-ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। খবর পেয়ে আজ মঙ্গলবার ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি-ঘর পরিদর্শনে করে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
পরিদর্শন শেষে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের পরপরই অভিযুক্তরা পালিয়ে গেছে। আমরা বিভিন্ন টেকনোলজির মাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। অভিযান অব্যাহত আছে। ভাঙচুর লুটপাটের বিষয়ে অভিযোগ পেলে এটাও ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’
ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কেএম মামুনুর রশীদ বলেন, ‘এখানে দুই পক্ষের যে দ্বন্দ্ব, সেটা দীর্ঘদিনের একটা দ্বন্দ্ব। কিছুদিন স্তিমিত থাকে, আবার কোনো একটা উছিলায় জেগে উঠে। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যে ভাঙচুর হয়েছে এটা ঠিক না। আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে।’