বাগেরহাটের মোংলার বাদল ফরাজীর স্বপ্ন ছিল তাজমহল দেখার। সেজন্য ২০০৮ সালে ভারতের দিল্লি যান। কিন্তু একটি হত্যা মামলার আসামির নামের সঙ্গে আংশিক মিল থাকায় তাকে আটক করে দিল্লির পুলিশ। নিরপরাধ হওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্ত হন খুনের দায়ে। সেই থেকে টানা ১৮ বছর বন্দি কারাগারে।
বাদল ফরাজীর মুক্তির দাবিতে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন তাঁর স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। এসময় সরকারকে ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে তারা বলেন, বিগত দুই সরকারের আমলে স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয় আশ্বাস দিলেও মুক্তি পাননি বাদল।
তার বোন জানান, বাদল কারাগারে থাকতেই মারা যান বাবা। এখন তার মাও অসুস্থ হয়ে চলাচলে অক্ষম। বিনা অপরাধে দেড় যুগ কারাবন্দি বাদলের দ্রুত মুক্তি চান স্বজনেরা।
বাদলের বোন বলেন, ‘আমার মায়ের শেষ হচ্ছা তার জীবনের শেষ সময়ে তিনি তার ছেলেকে পাশে চান। সরকারের কাছে আমাদের দাবি আমার ভাইকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া হোক এবং দ্রুত দেওয়া হোক।’
বাদল ফরাজীর মুক্তির দাবি জানিয়েছে বেসরকারি সংগঠন প্রচেষ্টা ফাউন্ডেশন। তারা বলছে, তাকে যেভাবে ১৮ বছর আটকে রাখা হয়েছে, তা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন।
এক মানববন্ধনকারী বলেন, ‘বাদল ফরাজী যে নির্দোষ সেটি নিয়ে দিল্লীতে মানববন্ধন হয়েছে, সেখানে গণস্বাক্ষর কার্যক্রম হয়েছে, দিল্লীর মানবাধিকার কর্মীরা কাজ করেছে। অথচ নিজ দেশে বাদল ফরাজী আজ উপেক্ষিত।’
আরেকজন বলেন, নিরপরাধ একজন মানুষ তার জীবন শেষ, তাকে তো এখন মুক্তি দেওয়া ছাড়া সরকারের হাতে আর কোনোকিছু নাই।’
ভারতে ১০ বছর বন্দি থাকার পর, ২০১৮ সালে বাংলাদেশে পাঠানো হয় বাদলকে। সেই থেকে আছেন দেশের কারাগারে। পরিবারের প্রত্যাশা, বর্তমান সরকারের প্রচেষ্টায় দ্রুতই মুক্তি মিলবে তার।