নববর্ষকে স্বাগত জানাতে বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু

নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার মূল আয়োজন বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে সকাল ৯টা ৩ মিনিটে। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে চারুকলা অনুষদ থেকে শোভাযাত্রা শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণ ডান পাশে রেখে দোয়েল চত্বর হয়ে বাংলা একাডেমির সামনে দিয়ে আবার চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে। এবারের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য 'নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’।

বৈশাখী শোভাযাত্রায় এবার মোট পাঁচটি প্রধান মোটিফ রাখা হয়েছে। এগুলো হলো–মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়া। মোরগ নতুন সূচনা, জাগরণ ও আলোর আগমনের প্রতীক হয়ে অন্ধকার দূর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। দোতারা বাঙালির লোকসংগীতের প্রাণ হিসেবে আমাদের সাংস্কৃতিক শেকড়কে তুলে ধরে, পাশাপাশি বাউল শিল্পীদের অবমূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে সংগীতের মর্যাদার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে নির্মিত কাঠের হাতি লোকজ ঐতিহ্য, শক্তি ও আভিজাত্যের প্রতীক। টেপা আকৃতির ঘোড়া গ্রামবাংলার সরল জীবন ও শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে। পায়রা সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও বৈশ্বিক শান্তির বার্তা দেয়।

এদিকে পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথে রাজধানীর রমনার বটমূলে ছায়ানটের গানে গানে হলো বর্ষবরণ। সকাল সোয়া ৬টায় সমবেত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ গানের মাধ্যমে শুরু হয় অুনষ্ঠান।

নববর্ষ বরণে প্রভাতি আয়োজনে এবারের মূল ভাবনা ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’। অনুষ্ঠান সাজানো হয়  রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন সাঁই, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, অজয় ভট্টাচার্য, আবদুল লতিফ, জ্যোতিরিন্দ্র মৈত্রের গান দিয়ে। এছাড়াও রয়েছে লোকগান। এবারের আয়োজনে মোট ২২টি গানের মধ্যে ৮টি সম্মিলিত কণ্ঠে, একক কণ্ঠের গান ১৪টি। ছায়ানটের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশিষ্ট শিল্পীসহ প্রায় ২০০ শিল্পী অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।