মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধার অভিযোগ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা

শরীয়তপুর জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগের পর বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের শেষ দিন রোববার রাতে নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচন কমিশন কার্যনির্বাহী কমিটির ১৫টি পদের বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করে। নির্বাচিত আইনজীবীরা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে দায়িত্বে রয়েছেন।

১৫টি পদের মধ্যে সভাপতি পদে মুহাম্মদ কামরুল হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মৃধা নজরুল ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। কামরুল হাসান শরীয়তপুর জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এবং নজরুল ইসলাম জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা কমিটির সদস্য সচিব।

নির্বাচনকে ঘিরে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপিপন্থী আইনজীবী ও তাদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে প্রবীণ আইনজীবী ও জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাবেক সভাপতি মোসলেম উদ্দিন খানকে লাঞ্ছিত করা হয়। এছাড়া আইনজীবী মুরাদ হোসেন মুন্সীকে তার চেম্বারে গিয়ে মারধর করার ঘটনাও ঘটে।

সোমবার বিকেলে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আইনজীবী সমিতির হলরুমে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে। তাদের দাবি, নির্বাচনে কোনো প্রভাব বিস্তার করা হয়নি এবং কাউকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা বা লাঞ্ছিত করা হয়নি। মুরাদ হোসেনকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

আইনজীবী সমিতি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ২ এপ্রিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৫ এপ্রিল ভোটগ্রহণের তারিখ নির্ধারিত ছিল। রোববার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের দিন নির্ধারিত ছিল। ওই দিন আইনজীবী সমিতি ভবনের নিচতলায় হলরুমে সকাল ১১টা থেকে মনোনয়নপত্র বিতরণ শুরু হয়। এ সময় হলরুমের সামনে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা অবস্থান নেন এবং ভবনের বাইরে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা জড়ো হন। তারা স্লোগান দিতে থাকেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীদের চেম্বারে গিয়ে গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

বাধা উপেক্ষা করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে গেলে প্রবীণ আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন খানকে হলরুমে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তাকে লাঞ্ছিত করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আইনজীবীদের সংগঠন ইসলামী আইনজীবী পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুরাদ হোসেন মুন্সী সহ-সভাপতি পদে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনার রুবায়েত আনোয়ার তার চেম্বারে গিয়ে তাকে মারধর করেন। রুবায়েত আনোয়ার মুরাদ হোসেনের ভগ্নিপতি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবী বলেন, সমিতির অধিকাংশ ভোটার আওয়ামী লীগ সমর্থিত হওয়ায় বিএনপিপন্থীরা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে জিততে পারবেন না—এমন আশঙ্কা থেকেই দীর্ঘদিন ধরে মনোনয়নপত্র সংগ্রহে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এবারও মনোনয়নপত্র নিতে গেলে বাধা ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জেলা কমিটির সদস্য সচিব মৃধা নজরুল ইসলাম বলেন, তাদের প্যানেলের প্রার্থীদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে অন্যরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কাশেম বলেন, একটি দলের কার্যক্রম আইনগতভাবে নিষিদ্ধ হওয়ায় ওই দলের ব্যানারে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। সমিতির আইনজীবীদের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এমন অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার সুলতান নাসির জানান, ১৫টি পদের বিপরীতে ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় সবাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। তাই তাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে।