সক্রিয় ৫০ অপরাধী চক্র, মোহাম্মদপুরে ২০ মাসে ২৩ হত্যা

১২ এপ্রিল বিকেল। মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার ঢালে প্রতিপক্ষের কয়েকজন তাড়া করে ইমন ওরফে অ্যালেক্স ইমনকে। এক সময় রাস্তার ওপর পরে গেলে সেখানেই তাঁকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় ইমনের।

এ ঘটনার ঠিক তিন দিন পর রাত ১টার দিকে সাদেক খান ইটখোলার সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয় আসাদুল হক ওরফে লম্বু আসাদুলকে। নিহত দুজনই এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ডজনখানেক মামলার আসামি।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০ মাসে মাদকের টাকা ভাগাভাগি, দখল, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্বে খুন হয়েছে ২৩ জন। এ সময়ে প্রতিদিন গড়ে চুরি-ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে অন্তত পাঁচটি করে।

ডিএমপি ডিসি (মিডিয়া) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘এ সকল সন্ত্রাসীদেরকে শেলটার দেওয়ার মতো মানুষ আছে। যখন যে রাজনৈতিক দলই আসুক তারা সে দলের ছত্রছায়ায় নিজেদের কাজ করতে থাকে।’

খোদ পুলিশই বলছে, মোহাম্মদপুরে অন্তত অর্ধশত অপরাধী চক্র রয়েছে। গত ২০ মাসে মোহাম্মদপুর থানাতেই গ্রেপ্তার সাড়ে চার হাজার। কিন্তু নিয়ন্ত্রণে আসেনি চুরি-ছিনতাই-হত্যা।

ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মো. ইবনে মিজান বলেন, একযোগে সব জায়গায় না পারলেও রায়ের বাজার, বসিলা ও ঢাকা উদ্যানকেন্দ্রীক অভিযান প্রায়ই পরিচালনা করা হয়। এতে করে ছিনতাই বা ছোট-খাট অপরাধকারীরা ধরা পড়ে।

আশির দশক থেকেই মোহাম্মদপুরে আধিপত্য নিয়ে বিভিন্ন গ্রুপের সংঘাতে জিম্মি এলাকাবাসী। বিভিন্ন সরকারের সময় বদলেছে কেবল গডফাদার বা প্রভাবশালী আশ্রয়দাতাদের নাম। জোসেফ বাহিনী থেকে শুরু করে পিচ্চি হেলাল নানা গ্রুপের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা গ্রেপ্তার হলেও, বারবার জামিনে বেরিয়ে যাওয়ায় হয়নি বিচার বা শাস্তি।