ঠিকাদারের বিল নিয়ে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এক মৃত ঠিকাদারের বকেয়া বিল তুলতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছে পরিবার। এ বিষয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীসহ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে উঠেছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। ফাইল আটকে রেখে ১০ শতাংশ পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ঠিকাদারেরা।
পৌরসভার ঠিকাদার কিতাব আলি ছয় মাস আগে ক্যান্সারে মারা যান। বাবার পাওনা বিল তুলতে গিয়ে বিপত্তির শিকার ছেলে শেখ রুবেল। নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন ফাইল অনুমোদনের জন্য ১০ লাখ টাকা বিলের বিপরীতে ১ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন, অভিযোগ রুবেলের।
গত ৪ জানুয়ারি নগদ ৫০ হাজার টাকা দিলেও বাকি টাকা না দেওয়ায় আটকা পড়ে বিল। ঘুষের টাকা নিয়ে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যাদেশ ছুঁড়ে ফেলে দেন, বলছেন রুবেল।
শুধু রুবেল নয়, একই ধরণের ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন পৌরসভার আরও অনেক ঠিকাদার। প্রতিবাদ করলে কাজ আটকে দেওয়া ও মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়, জানান তাঁরা।
ভুক্তভোগীরা জানান, অনেকেরই বিল ও সিকিউরিটি মানি তারা আটকে রেখেছে। টাকা না দিলে কোনো কাজই হয় না।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা। ফাইল ছুঁড়ে ফেলা হয়নি এমন দাবি করে অফিসের গোপন নথি বাইরে যাওয়া দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানান তারা। এক পর্যায়ে নিজেদের মধ্যে দোষারোপ ও তর্কে জড়িয়ে পড়েন এই দুই কর্মকর্তা।
মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদত হোসেন বলেন, ‘আমি কোনো ঘুষ কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। আমার বিরুদ্ধে ঘুষের অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে ষড়যন্ত্র।’
দুর্নীতির লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় কমিশনার বরাবর পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘মানিকগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো আমাদের কাছে এসেছে, সেগুলো তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানিয়ে আমরা বিভাগীয় কমিশনে পত্র দিয়েছি।’
এর আগেও নির্বাহী প্রকৌশলী শাহাদত হোসেনের ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। তবে এখনও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন।