দুর্ঘটনা-অপরাধে সতর্কতা, শরীয়তপুরে এআই ক্যামেরার অ্যালার্ট সিস্টেম

নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে শরীয়তপুর শহরের ১৪ কিলোমিটার এলাকায় স্থাপন হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সিসিটিভি ক্যামেরা। এর মাধ্যমে বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ প্রতিরোধ, অফিস বা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধ সম্ভব হবে বলে আশা করছে প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্খানীয়রা।

শরীয়তপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সড়কের ১৪ কিলোমিটার এলাকার প্রতিটি ঘটনা এখন সিসিটিভির নজরদারিতে। জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও নজরদারিতে থাকছে পুরো শহর।

শহরের বাস টার্মিনাল, আদালত, প্রশাসনিক কার্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বসানো হয়েছে এআই প্রযুক্তিনির্ভর ১২০টি ক্যামেরা। দুর্ঘটনা, অগ্নিকাণ্ড, যানজট কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চিহ্নিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যালার্ট পাঠাবে এসব ক্যামেরা। এর ফলে অপরাধ প্রবণতা কমবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে, আশা স্থানীয়দের।

স্থানীয়রা বলছেন, এখানে কোনো চুরি, ডাকাতি বা ছিনতাই হলে এই ক্যামেরার মাধ্যমে অপরাধীকে চিহ্নিত করা অনেক সহজ হবে।

বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় একই পদ্ধতিতে শহরজুড়ে নজরদারি ব্যবস্থা স্থাপন হয়েছে, জানালেন পরিচালনাকারীরা। এর মাধ্যমে দিনে-রাতে কোথায় কী ঘটছে, কারা ঘটাচ্ছে তা পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

পরিচালনাকারীরা বলছেন, এ ক্যামেরার কাজ মূলত মানুষ ও গাড়িকে ডিটেক্ট করা। এ ফিচারের নাম অ্যাকুসেন্স। এ ক্যামেরার মাধ্যমে কোনো এলাকায় যদি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয় সেটি কোনো গাড়ির মাধ্যমে হলে গাড়িটির নম্বর, কে অপরাধ করেছে এসব তথ্য বের করা সম্ভব। 

ডিজিটাল নজরদারির ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাজকে আরও সহজ করে তুলেছে। এ ছাড়া জেলা শহরের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পৌরসভা ও ইউনিয়নেও এই ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানালেন জেলা প্রশাসক।

শরীয়তপুর জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘শরীয়তপুরে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আমরা খুঁজে বের করেছি যে, কোন খুঁটিতে ক্যামেরা স্থাপন করলে একটি ক্যামেরা অকেজো হয়ে গেলেও অন্য ক্যামেরা দিয়ে অপরাধী খুঁজে বের করা সম্ভব। শুধু স্থলপথই নয়, নৌপথেও এ ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।’

ডিজিটাল প্রযুক্তির এই স্মার্ট নজরদারিতে নাগরিক সুরক্ষায় নতুন দিগন্তের সূচনা এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।