ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুকে শ্বাসরোধে হত্যা, গ্রেপ্তার ৩

ফরিদপুরে ৭ বছরের শিশু আইরিন আক্তার বিনা ওরফে কবিতাকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মাদকাসক্ত যুবক ইসরাফিল। একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এমন তথ্য জানিয়েছে ঘাতক ইসরাফিল। এ ঘটনায় ঘাতকসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ইসরাফিল মৃধা ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের বাখুন্ডা পূর্বপাড়ার ইবাদত মৃধার ছেলে।

নিহত শিশু কবিতা একই এলাকার বাকা বিশ্বাসের মেয়ে। সে স্থানীয় বোকাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিতে পড়ত।

শুক্রবার সকাল ১১টায় কোতয়ালী থানা কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফরিদপুর সদর সার্কেল এর সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন।


সহকারী পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন জানান, ২৪ এপ্রিল শিশুটি নিখোঁজের পর দিন তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করে। ৩০ এপ্রিল একটি কলাবাগান থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে সন্দেহভাজন আসামি ইসরাফিলকে আটক করে পুলিশ।

তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল জানায়, ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় সে ইয়াবা সেবন করে। পরে সে ওই শিশু কবিতাকে চকলেট খাওয়ানোর লোভ দেখিয়ে বাখুন্ডা আশ্রয়ন কেন্দ্রে আশিকের পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে সে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ইসরাফিল শিশুটির গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে মরদেহ পাশেই নাছিমা বেগমের বাড়ির টয়লেট এর ট্যাংকিতে ফেলে দেয়। ২৮ এপ্রিল ট্যাংকি থেকে গন্ধ বের হলে নাসিমা ঢাকনা তুলে লাশ দেখতে পেয়ে ভীত হয়ে পড়ে। শিশু হত্যার দায় তাদের উপর চাপতে পারে এই ভয়ে নাসিমা তার ছেলে আমিন ও রহমান মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে বাড়ির অদুরে নিয়ে একটি কলাবাগানে ফেলে রাখে। ৩০ এপ্রিল কলাবাগানে কাজ করার সময় স্থানীয় দুজন মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। জিজ্ঞাসাবাদে ইসরাফিল একাই শিশুটিকে হত্যা করেছে বলে জানিয়েছে।

ঘাতক ইসরাফিলসহ লাশ গোপন করার অভিযোগে নাসিমা বেগম ও তার ছেলে আমিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাসিমা একই এলাকার মৃত আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী।

এ ঘটনায় নিহত শিশুর পিতা বাকা বিশ্বাস বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।