নারায়ণগঞ্জে বিস্ফোরণে দগ্ধ বাবা ও তিন ছেলে

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর লাকি বাজার এলাকায় গ্যাসের লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। আজ সোমবার সকাল ৬টার দিকে শওকত আলী গাজীর মালিকানাধীন বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুল কাদিরের বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় দগ্ধ হলেন- আব্দুল কাদির (৫০), তাঁর ছেলে মো. মেহেদী (১৭), মো. সাকিব (১৬) ও মো. রাকিব (১৬)। তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। আব্দুল কাদির পেশায় হালিম বিক্রেতা। স্ত্রী ঘরের বাইরে থাকায় তিনি দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সোমবার সকাল ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার কুতুবপুর লাকি বাজার এলাকায় শওকত আলী গাজীর মালিকানাধীন টিনশেড বাড়ির ভাড়াটিয়া আব্দুল কাদিরের ঘরে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে ঘরের দরজা জানালা ভেঙে গেছে। এতে দগ্ধ হয় গৃহকর্তা আবদুল কাদিরসহ ৪ জন। তাদেরকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে যান।

এদিকে দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা প্রতিবেশী মো. ফারুক বলেন, ‘সকাল ৬টার দিকে আমরা বিকট শব্দ পেলে বাসায় গিয়ে দেখতে পাই দগ্ধ অবস্থায় বাবাসহ তিন ছেলে আগুনে ঝলসে গেছে। পরে জানতে পারি ফ্রিজের কম্প্রেসার ব্লাস্ট হয়ে এই ঘটনা ঘটে। পরে আমরা তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের ভর্তি দেয়।’

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নুরুল আলম দুলাল বলেন, ‘গ্যাসের পাইপ লাইনের লিকেজ থেকে ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে চেম্বার হয়েছিল। যে কোনো উপায়ে আগুনের স্পার্ক থেকে বিস্ফোরণ ঘটে এবং চারজন দগ্ধ হয়েছে। তাদেরকে বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি বিশেষজ্ঞ যারা আছেন তারা তদন্ত করে দেখবেন।’

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা এলাকায় থেকে দগ্ধ হয়ে চারজন এসেছে। তাদের মধ্যে আব্দুল কাদেরের শরীরের ৫৭ শতাংশ, তার তিন ছেলের মধ্যে মেহেদির ১৮ শতাংশ দগ্ধ, সাকিবের ১৭ শতাংশ দগ্ধ, রাকিবের ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের সবাইকে ভর্তি দেওয়া হয়েছে। তবে দগ্ধদের মধ্যে আব্দুল কাদেরে অবস্থা আশঙ্কাজনক।