ঈদযাত্রায় ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় তীব্র যানজটে পড়তে পারেন যাত্রীরা। কারণ, নীতিমালা না মেনে এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণ সামগ্রী রাখা হচ্ছে যত্রতত্র। নিচের সড়কে জায়গায় জায়গায় খানা-খন্দ। সেখানে বৃষ্টিতে জমে পানি। এতে সাধারণ সময়েই যানজট লেগে থাকে।
এদিকে প্রকল্পটির মেয়াদ আরও ৬ মাস বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে সহসাই ভোগান্তি কমে যাবে–এমন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
তুরাগ নদ ঘেঁষে কাজ চলছে আশুলিয়া-আব্দুল্লাহপুর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের। ২৪ কিলোমিটার প্রকল্পের সুফল পাওয়ার আগে ভোগান্তি-দুর্ভোগ চরমে।
ধউর মোড়, সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা। সড়কে তীব্র যানজট। সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয় রড, সিমেন্টসহ নানা সামগ্রী। ঈদযাত্রায় যা ভোগান্তির কারণ হতে পারে।
একজন ট্রাকচালক বলেন, এমনিতেই ভাঙা রাস্তা। তারপর বৃষ্টি। পানির নিচে কী আছে তো বোঝা যায় না।
এ ভোগান্তি কমতে লাগতে পারে আরও দুই মাস। প্রকল্প পরিচালক জানান, জুলাই নাগাদ বাইপাইল পর্যন্ত দুই লেনের কাজ শেষ হবে।
ঢাকা-বাইপাইল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম বলেন, অনেকগুলো কাজ হচ্ছে, বিশালএকটা প্রকল্প। আরও ছয় মাস প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছি।
পুরো প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে। তবে সময় আরও ৬ মাস বাড়ানোর আবেদন করা হয়েছে। বাড়তে চলেছে নির্মাণ ব্যয়ও।
কাজের ধীরগতিতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, মানুষের ভোগান্তি বাড়বে বলেও জানান বিশেষজ্ঞরা। এছাড়া বাড়বে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি।
বুয়েটের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, কাজ চলছে, নিচে খানা–খন্দ, ড্রেনেজ সিস্টেমটা দুর্বল। বৃষ্টি হলে সড়ক পানির নিচে চলে যাচ্ছে। যারা সেখানে বসবাস করেন, উন্নয়নের যে যন্ত্রণা তারা তা পাচ্ছেন। এটা ভুলে গেলে চলবে না।
এ প্রকল্প ২০১৭ সালের। ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি ২০২২ সালে। সে সময় ব্যয় বাড়ে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা। এতে অনুমোদিত খরচ দাঁড়ায় ১৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা।