নতুন উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। টানা ষষ্ঠ দিন সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলায় বন্ধ রয়েছে প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম। তবে মূল ফটকে কড়াকড়ি কিছুটা শিথিল থাকায় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, নতুন ভিসির নিয়োগ বাতিলসহ তিন দফা দাবিতে তাদের আন্দোলন চলবে। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ষষ্ঠ দিনে ডুয়েট ব্লকেড কর্মসূচি ঘোষণা করে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দুপুরে দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় তারা নতুন নিয়োগকৃত ভিসির অপসারণ দাবি করে বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। দুপুরে শহীদ মিনার এলাকায় সাংবাদিক সম্মেলন করে আন্দোলন নিয়ে শিক্ষার্থীদের অবস্থান তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন শিক্ষার্থীরা।
আন্দোলনের পাশাপাশি আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে জানিয়ে শিক্ষার্থী হাসানুর রহমান বলেন, মিথ্যা ট্যাগ দিয়ে, মামলা দিয়ে আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা নতুন ভিসির পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে অনড় রয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলন চলবে।
এ সময় ক্যাম্পাসে কোনো ছাত্র রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
এদিকে দুপুরের পর ক্যাম্পাসে খবর ছড়িয়ে পড়ে, নবনিযুক্ত উপাচার্য গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং ডুয়েট ছাত্রদলকে সঙ্গে নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জড়ো হন এবং বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সোমবার বিকেলে ডুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, ডুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর ডুয়েটের অভ্যন্তরীণ শিক্ষকদের মধ্য থেকেই নিয়োগ দিতে হবে।
তাদের মতে, ডুয়েটের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বাস্তবতা, অ্যাকাডেমিক কাঠামো ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা ও ধারণা তুলনামূলক বেশি। ফলে ডুয়েটের উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ শিক্ষক থেকে উপাচার্য নিয়োগ অধিক কার্যকর হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ব্লকেড কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালাবন্ধ থাকলেও খোলা রয়েছে পকেট গেট। সকাল থেকে কিছু শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন। মূল ফটকের সামনে জ্বালিয়ে দেওয়া মোটরসাইকেল অংশ বিশেষ এখনও পড়ে রয়েছে। ফটকের সামনে বিভিন্ন আসবাবপত্র ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের কর্মসূচির কারণে বন্ধ রয়েছে প্রতিষ্ঠানের দাপ্তরিক ও অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম। এতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইকবালকে ডুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে আন্দোলন শুরু হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ডুয়েটের মধ্যে বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তারা জয়দেবপুর শিমুলতলী রাস্তা অবরোধ করে। শুক্রবারেও তাদের আন্দোলন চলমান থাকে। শনিবারে তারা ভিসিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ‘লাল কার্ড কর্মসূচি’র ব্যানারে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। রোববার শিক্ষার্থীদের দুই পক্ষের মধ্যে দিনভর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে পুলিশ শিক্ষার্থীসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। সকাল সাড়ে ১২ টার পর ব্লকেড ও বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দেন শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করেছে। এখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা নেই।