রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে ব্যবহৃত ৪০ বডির মরচুয়ারি কুলার হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ায় লাশ সংরক্ষণ ও ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে মর্গের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ফরেনসিক মেডিসিন অ্যান্ড টক্সিকোলজি বিভাগ এ পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে কুলারটি মেরামতের জন্য হাসপাতালের অধ্যক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছে। সোমবার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কাজী গোলাম মোখলেছুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠির অনুলিপি প্রতিবেদকের হাতে পৌঁছায়।
স্মারকে উল্লেখ করা হয়, গত ২ জুন থেকে মর্গে থাকা ৪০ বডির মরচুয়ারীকুলারটি হঠাৎ অকার্যকর হয়ে পড়ে। এর ফলে লাশ সংরক্ষণ এবং নিয়মিত ময়নাতদন্ত কার্যক্রম পরিচালনায় চরম অসুবিধা দেখা দিয়েছে। এতে বিভাগের দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে কুলারটি দ্রুত মেরামত করা অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘ সময় অচল থাকলে লাশ সংরক্ষণে সংকট আরও বাড়বে এবং ময়নাতদন্ত কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বিষয়টি ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। স্মারকের অনুলিপি উপাধ্যক্ষ, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মর্গের একাধিক কর্মচারী জানান, কুলারটি বিকল থাকায় বর্তমানে একসঙ্গে প্রায় ৪০টি মরদেহ সংরক্ষণের সক্ষমতা থাকলেও মাত্র সাতটি মরদেহ রাখা যাচ্ছে। এতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়া এবং মরদেহ দ্রুত পচে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন মরদেহ গ্রহণেও জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
তারা আরও জানান, বাধ্য হয়ে মর্গের বারান্দা ও কক্ষের মেঝেতে মরদেহ রাখতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। দুর্গন্ধের কারণে দায়িত্ব পালন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি মর্গসংলগ্ন গলিপথ দিয়ে চলাচলেও ভোগান্তি বাড়ছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুতই সমস্যার সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’