কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পাগলা মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে প্রায় ছয় মাসে জমা পড়া ১৫ কোটি ৯০ লাখ ৮০ হাজার ১৪৬ টাকা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারও উদ্ধার হয়েছে।
শনিবার সকাল ৭টায় কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের উপস্থিতিতে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাজমুস সাকিব খানসহ পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
দানবাক্স থেকে পাওয়া টাকা ৪৩টি বস্তায় ভরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। পরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে প্রায় ৪০০ মাদ্রাসাশিক্ষার্থী ও শিক্ষক এবং শতাধিক ব্যাংক কর্মকর্তা দিনব্যাপী টাকা গণনার কাজ করেন।
মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, এবার ছয় মাস পর দানবাক্স খোলা হয়েছে। নগদ অর্থের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রূপার অলঙ্কারও পাওয়া গেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর তিন মাস ২৭ দিন পর দানবাক্স খুলে ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা পাওয়া যায়। তখনও বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ-রূপার অলঙ্কার উদ্ধার হয়েছিল।
পাগলা মসজিদে মানত করলে বিভিন্ন মনোবাসনা পূরণ হয়—এমন বিশ্বাস থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এবং বিদেশে বসবাসরত মানুষ নগদ অর্থ, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দান করে থাকেন। অনেকেই অনলাইনের মাধ্যমেও মসজিদের তহবিলে অর্থ প্রদান করেন।
ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে আসা অঞ্জনা রাণী দাস বলেন, ‘পাগলা মসজিদে সব ধর্মের মানুষ দান করেন। আমার একটি মানত ছিল। মনোবাসনা পূরণ হওয়ায় সাধ্যমতো দান করেছি।’
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাসিন্দা জামিল উদ্দিন বলেন, ‘প্রবাসে থাকাকালে আমি এই মসজিদে একটি ছাগল মানত করেছিলাম। দেশে ফিরে সেটি দান করেছি। আল্লাহ আমার মনোবাসনা পূরণ করেছেন।’
পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, ‘এবার দানের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে মসজিদের ব্যাংক হিসাবে মোট ১৩০ কোটি ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৪৯৮ টাকা জমা রয়েছে। এই অর্থ দিয়ে আন্তর্জাতিক মানের একটি দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি, শিগগিরই প্রকল্পটির কাজ শুরু করা যাবে।’
জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় আড়াইশ বছর আগে পাগলবেশী এক আধ্যাত্মিক ব্যক্তি খরস্রোতা নরসুন্দা নদীতে মাদুরে ভেসে এসে বর্তমান মসজিদ এলাকায় অবস্থান নেন। তার মৃত্যুর পর সমাধির পাশে মসজিদটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে এটি ‘পাগলা মসজিদ’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
১৯৭৯ সালের ১০ মে থেকে ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে মসজিদটির পরিচালনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।