মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর নির্দেশের পরও পাল্টেনি টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী ভোগান্তির চিত্র। নানা অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি ও বিশুদ্ধ খাবার পানি সংকট রয়ে গেছে আগের মতোই। ফলে কাঙ্খিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বহির্বিভাগে রোগীদের প্রচণ্ড চাপ থাকলেও বেলা গড়ালেও দেখা মিলছিল না চিকিৎসকদের। শুধু এ বিভাগ নয়, অনেক বিভাগের চিকিৎসকই সময় মতো আসেন না। ফলে ভোগান্তির পাশাপাশি কাঙ্খিত সেবা নিয়ে অভিযোগ রোগীদের।
রোগীর সাথে আসা এক যুবক বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার সময় ডাক্তার আসার পরে দুই–তিনশ লোকের মধ্য থেকে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন নিয়ে বলছে আজকে আর হবে না।
আরেক রোগীর স্বজন বলেন, যাদের সার্জারির প্রয়োজন এমন ইমার্জেন্সি রোগী আসছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এখানে সার্জারির কোনো ডাক্তারই নাই।
একই অবস্থা হাসপাতালের অন্তর্বিভাগেও। রোগীরা বলছেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় সুচিকিৎসা নিশ্চিত হচ্ছে না। এছাড়া হাসপাতালের ভেতরে খাবার পানির সরবরাহ না থাকা ও অপরিচ্ছন্ন শৌচাগারও ভোগান্তি বাড়িয়েছে।
এক রোগী বলেন, এখানে কোনো স্টাফ কথাই শোনে না এখানে। নোংরা–আবর্জনা যেমন ছিল, তেমনই আছে। কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এক নারী অ্যাটেনডেন্ট বলেন, পানি কিনে আনা লাগে। আর না হয় বাইরে থেকে আনা লাগে।
গণপূর্ত বিভাগকে বিভিন্ন বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হলেও সেগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় কাঙ্খিত সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান হাসপাতালের পরিচালক।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস বলেন, মন্ত্রী মহোদয় আসছিলেন। এগুলোর জন্য গণপূর্ত আমার সাথে যোগাযোগ করছে। তারা পানির লাইন ও পয়ঃনিষ্কাষণের মেরামত করবে। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতার বিষয়টা আরও বাড়াতে হলে আমাদের জনবল নিশ্চিত করতে হবে।
গত ১৭ জুন, হাসপাতালটি পরিদর্শন করে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে উপ-পরিচালককে কারণ দর্শনার নোটিশ দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।