কিশোর অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে জিম্মি রাজধানীর মিরপুরের কালশী এলাকার বাসিন্দারা। সুযোগ পেলেই এলাকাবাসীর ওপর আতঙ্ক বাড়াতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়ে তারা। পুলিশ বলছে, কিশোর অপরাধী চক্রের বেশিভাগই ১৮ বছরের নিচে হওয়ায় তাদের একাধিকবার গ্রেপ্তার করেও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।
এলাকাবাসী বলছেন, আশিকুর রহমান শান্ত গ্রুপের সদস্যরা আধিপত্য বিস্তারের জন্য আশুরার দিনে তাজিয়া মিছিলের সময়েও এলাকায় মহড়া দেয়।
কালশী এলাকার পাঁচটি বাড়িতে হামলা করে শান্ত গ্রুপের সদস্যরা, ভেঙে ফেলে সবগুলো সিসিটিভি ক্যামেরা। লুট করে আশপাশের দোকান। এসময় আহত হন একজন রিক্সাচালক। পরবর্তীতে ভয়ে মিডিয়াকেও জানাননি তিনি।
রিকশাচালক ইনডিপেনডেন্টকে বলেন, আমি ওইদিনকা গ্যারেজে গাড়ি রাইখা রাস্তা দিয়ে আইতাছি। অনেক পোলাপান আইল। ফট কইরা এক পোলা আমারে কোপ দিয়া দিছে।
এক নারী বলেন, গেট লাইগাইয়া দেওয়ার পরে চার–পাঁচটা কোপ দিছে।
পল্লবী থানা বলছে, এর আগে আশিককে যৌথবাহিনী, র্যাব ও থানা পুলিশ একাধিকবার গ্রেপ্তার করলেও জামিনে বের হয়ে নতুন করে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন তিনি। ডাকাতির প্রস্তুতি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে এক ডজন মামলা আছে আশিকের বিরুদ্ধে।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির বলেন, তথ্য নিয়ে জেনেছি যে, এখানে আশিক নামে একটা ছেলে এই গ্রুপটা মেইনটেইন করে। আশিকের নামে আমাদের থানায় পাঁচটা মামলা রয়েছে। আমরা সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করে চালানও দিয়েছিলাম। জামিনে বেরিয়ে এসেছে। এই গ্রুপের বেশিরভাগ ছেলেই অপ্রাপ্ত বয়স্ক।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, আসামিদের একাধিকবার গ্রেপ্তার করেও সুফল মিলছে না। মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্প এলাকায় আইন না মানার সংস্কৃতি উদ্বেগের কারণ বলেও মন্তব্য করেন তারা।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্প এবং মিরপুরের দিকে বিহারী ক্যাম্পগুলো আছে। এই ছেলেপেলেগুলো আইনের প্রতি খুব বেশি শ্রদ্ধাশীল নয়। তারা কেন যেন ডেসপারেট টাইপের। এরা সবসময় আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে।
কিশোর অপরাধীরা সংশোধন কেন্দ্রে গিয়ে অন্য অপরাধীদের সংস্পর্শে এসে আরও বেশি অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, বলেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।