পুলিশের কাছ থেকে এক ডজন মামলার আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ 

নরসিংদী রায়পুরায় সেলিম মিয়া (৪৫) নামে হত্যাসহ এক ডজন মামলার আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়েছে স্থানীয়রা। বুধবার বিকেলে রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ ফেরিঘাটে এ ঘটনা হয় বলে জানায় স্থানীয়রা। 

আসামি সেলিম মিয়া (৪৫) রায়পুরা উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ গ্রামের মৃত তায়েব উদ্দিনের ছেলে।

এদিকে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মজিবুর রহমান জানিয়েছেন, হত্যাসহ ৩ মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সেলিমকে গ্রেপ্তার করতে গেলে ফেরিঘাটে স্থানীয় লোকজন জড়ো হওয়ার কারণে সৃষ্ট ভিড়ের মধ্যে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।  

স্থানীয়রা জানান, একাধিক হত্যা, বাড়ি পুড়ানো, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারামারিসহ নানা অভিযোগে সেলিম মিয়ার বিরুদ্ধে এক ডজন মামলা ছিল। বিকেলে শ্রীনগর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে পুলিশ সেলিম মিয়াকে নিয়ে পুলিশের গাড়িতে করে থানার উদ্দেশে রওনা দেয়। পুলিশের গাড়িটি সায়দাবাদ ফেরিঘাটে পৌঁছালে স্থানীয় লোকজন জড়ো হয়ে পুলিশের কাছ থেকে আসামি সেলিমকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এসময় স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হামলায় কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়। 

রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী সার্জন নুসরাত জাহান নিপা বলেন, আজ বিকেলে আব্দুল আলিম নামে একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়ে আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তিনি আসামি ধরতে গিয়ে আহত হন। আসামি ওনাকে ইট দিয়ে ডান হাতের শোল্ডার জয়েন্টের একটু নিচে আঘাত করে আহত করে বলে জানান। আমরা এক্স-রে করতে দিয়েছি, পরে বিস্তারিত বলা যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা থানার ওসি মো. মজিবুর রহমান জানান, সেলিমের বিরুদ্ধে একটি হত্যাসহ তিনটি মামলার ওয়ারেন্ট রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ সায়দাবাদ এলাকায় গেলে স্থানী লোকজন জড়ো হয়। স্থানীয় লোকজনের ভিড়ের মধ্যে আসামি সেলিম মিয়াকে গ্রেপ্তারের আগেই তিনি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। 

এ সময় কোনো পুলিশ আহত হয়নি বলে দাবি করেন ওসি মো.মজিবুর রহমান।